মহিউদ্দিন আহমদ
জন্ম ১৯৫২, ঢাকায়। পড়াশোনা গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সুংকোংহে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। সমসাময়িক ইতিহাস ও রাজনীতি নিয়ে অনেকগুলো বই লিখেছেন। গদ্য আর পদ্য, দুই জমিনেই হাঁটাহাঁটি করেন। প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে আছে- জাসদের উত্থান পতন: অস্থির সময়ের রাজনীতি, বিএনপি: সময়-অসময়, বেলা-অবেলা: বাংলাদেশ ১৯৭২-১৯৭৫, এক-এগারো: বাংলাদেশ ২০০৭-২০০৮, লালসন্ত্রাস: সিরাজ সিকদার ও সর্বহারা রাজনীতি, প্রতিনায়ক সিরাজুল আলম খান, পার্বত্য চট্টগ্রাম: শান্তিবাহিনী জিয়া হত্যা মনজুর খুন, রাজনীতির মওলানা: মজলুম জননেতা বিক্ষোভের কারিগর, একাত্তরের মুজিব, ১৯৭১: ভারতের বাংলাদেশ যুদ্ধ ইত্যাদি।
** সত্তরের দশকে এ দেশের মানুষ কম্বল চুরির বিরুদ্ধে স্লোগান দিত। এখন আর শুধু কম্বল নয়, গোটা দেশের সম্পদ নানাভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে গুটিকয় পরিবার ও গোষ্ঠী। তাঁরা কেউ বিদেশে থাকেন, কেউ দেশে হোমরাচোমরা হয়ে বসে আছেন। তাঁদের অনেকের পরিবার বিদেশে উড়াল দিয়েছে অনেক আগেই।
** সব মিলিয়ে দেশে ছাত্ররাজনীতি নেই। যেটা আছে, সেটা হলো নষ্ট হওয়া, পচে যাওয়া জাতীয় রাজনীতির চুইয়ে পড়া একটা চর্চা। ছাত্ররা যদি তাঁদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের বা তাঁদের সমষ্টিগত সমস্যা নিয়ে দর-কষাকষি করতে চান, দাবি আদায় করতে চান, সেটা তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে করতে পারেন। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গসংগঠনের কমিটি থাকতে হবে কেন?
** আমরা যারা একাত্তরের ঘটনাবলির প্রত্যক্ষদর্শী, আমরা দেখেছি ৩ মার্চ অনুষ্ঠেয় গণপরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হলে জনতা ক্ষোভে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে, প্রকাশ্যে পাকিস্তানি পতাকা পোড়ায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে দেয়। সাধারণ মানুষের কাছে পয়লা মার্চ থেকেই পাকিস্তান মৃত। পাকিস্তান সরকারের একতরফা ঘোষণার প্রতিবাদে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন।
............মহিউদ্দিন আহমদ লেখক ও গবেষক