মুহাম্মদ বরকতুল্লাহ
বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগের একজন বাংলাদেশি মুসলমান বাঙালি মননশীল সাহিত্যিক ও ধর্মতাত্ত্বিক। তিনি ১৮৯৮ সালে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করে। শাহজাদপুর হাইস্কুল, রাজশাহী কলেজে এবং কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে দর্শন শাস্ত্রে এম.এ. ও পরে তিনি আইনশাস্ত্রেও ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হলে এর বিশেষ কর্মকর্তা (পরিচালক) তথা প্রধান নির্বাহ হিসাবে দায়িত্বভার প্রাপ্ত হন। তিনি একজন সৃজনশীল গদ্যশিল্পী। বাংলা ভাষায় দার্শনিক ও চিন্তামূলক প্রবন্ধ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। পারস্য প্রতিভা এবং মানুষের ধর্ম তার বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থ। অপরাপর গ্রন্থ: কারবালা ও ইমাম বংশের ইতিবৃত্ত (১৯৫৭), নবীগৃহ সংবাদ (১৯৬০), নয়া জাতির স্রষ্টা হজরত মোহাম্মদ (১৯৬৩), হজরত ওসমান (১৯৬৯), বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ধারা (১৯৬৯)। প্রবন্ধে বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬০) এবং নয়াজাতির স্রষ্টা হজরত মোহাম্মদ গ্রন্থের জন্য দাউদ পুরস্কার (১৯৬৩) লাভ করেন। পাকিস্তান সরকার কর্তৃক "সিতারা-ই-ইমতিয়াজ" উপাধিতে ভূষিত (১৯৬২) হন ও "প্রেসিডেন্ট পারফরমেন্স অ্যাওয়ার্ড" পদক লাভ (১৯৭০) করেন।