হাঁসুলী বাঁকের উপকথা (১৯৫১) তারাশঙ্করের অন্যতর প্রধান সৃষ্টি। বনোয়ারী তারাশঙ্করের শ্রেষ্ঠ চরিত্র কল্পনাগুলোর অন্যতর। বারে বারে নানা আয়োজনে ও প্রয়োজনে সাপের প্রসঙ্গ ব্যবহৃত হয়েছে এই উপন্যাসে। সাপ যৌনতার প্রতীকও বটে, বনোয়ারীর অবচেতনে করালীর সর্প-নিধনজনিত অপরাধবোধের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল অস্পষ্টভাবে তার জীবনের কালোশশী-ঘটনা। তখনই সাপের মোটিফ হয়ে ওঠে অনিবার্য। এ উপন্যাসের সাপ আর নদী দুই প্রতীক। একটি হল যুগযুগান্তর ধরে জমে থাকা কাহারদের বহির্জীবন ও অন্তর্জীবনের অন্ধকারের প্রতীক। আর একটি হল এই অচলতার মাঝখানে গতির প্রতীক। আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তারাশঙ্করের বস্তুজ্ঞান, বিষয়বোধ। ঐ আঞ্চলিক পটভূমির অনুপুঙ্খ জ্ঞান, ভূমিব্যবস্থার এবং গ্রামীণ আর্থনীতিক প্যাটার্নের সঠিক চিত্র অঙ্কন ইত্যাদি এই উপন্যাসের সার্বিক পরিবেশকে জমামট করে তুলেছে। তা এত জমাট যে, এই উপন্যাসের কোনোটি থেকে কোনোটিকে পৃথক করা যায় না। এমন কি মহৎ ঔপন্যাসিকের মতই তারাশঙ্কর দেশজ বাগরীতির উপর তাঁর আশ্চর্য অধিকারকে শুধু সপ্রমাণ করেননি, তাকে শিল্পশুদ্ধ করে তুলেছেন।