মুরতাদ বা ধর্মত্যাগীকে শাস্তি এবং ধর্মীয় সমালোচনা বা ধর্মানুভূতিতে আঘাতের জন্য মৃত্যুদণ্ড দাবি করা ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও উগ্রতার প্রকাশ। তবে এর পেছনে ধর্মের প্রকৃত নির্দেশনা সম্পর্কে বিভ্রান্তি বহুলাংশে দায়ী। ধর্মের নামে জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি ধর্মীয় ভুল ধারণা দূর করাও জরুরি। এ বিভ্রান্তি দূর করতে আল কুরআনের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার বিষয়ক শিক্ষার বস্তুনিষ্ঠ প্রচার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
বইটিতে আল কুরআনের আলোকে মুরতাদ হত্যার অবৈধতা তুলে ধরা হয়েছে। স্রষ্টার দৃষ্টিতে ধর্মীয় বিশ্বাস, অবিশ্বাস, গ্রহণ বা ধর্মত্যাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। তাই মুরতাদকে পার্থিব শাস্তি প্রদান বা হত্যা কুরআনের শিক্ষার পরিপন্থী এবং এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। কুরআনের দণ্ডবিধিতে মুরতাদকে কোনো শাস্তি প্রদানের সুযোগ নেই। বরং ধর্ম ও সমাজজীবনের ন্যায়সঙ্গত কাঠামোতে মুরতাদ হত্যার অবৈধতার বিষয়টি সুস্পষ্ট।
মুরতাদ হত্যার নীতি কুরআনে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতির লঙ্ঘন। এ বইয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং ইসলামের সুমহান শিক্ষার প্রচারের প্রাসঙ্গিক দিকগুলো আলোচিত হয়েছে। জঙ্গীবাদ ও ধর্মীয় উগ্রতার বৈশ্বিক হুমকির মোকাবিলায় মুরতাদ হত্যার অবৈধতার এই বিষয়টি আরও বেশি প্রচারিত ও পর্যালোচিত হওয়া প্রয়োজন। এটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ার প্রত্যাশাকারী সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।