পামীর মালভূমির নীরব পাহাড়। এই পাহাড়ের বুক চিরে জন্ম নিয়েছে ভাখশ নামের এক নদী। নদীর কলতানধ্বনি আর পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে শোঁশোঁ শব্দ এখানকার গ্রামকে জাগিয়ে রাখে। এর মাঝেই জন্ম নিয়েছে এক শিশু—জালাল উদ্দিন। কিন্তু তাঁর জীবন আর দশটি শিশুর মতো শান্ত নদীর ধারায় বয়ে যায়নি। অজানার পথে পিতা-মাতার হাত ধরে ছেলেবেলাতেই শুরু হয় তার দীর্ঘ এক যাযাবর যাত্রা। উজবেকিস্তান থেকে সিরিয়া, মক্কা হয়ে ইরান শেষে এসে থিতু হন আনাতোলিয়ার কোনিয়ায়।
পিতৃ-মাতৃহারা হয়ে জীবন ও জীবিকার তাগিদে তিনি দাঁড়ান ধর্মশাস্ত্রের কঠিন প্রাচীরের এক পাশে। ধরা দেন এক কঠোর বিদ্বান হিসেবে। কিন্তু সময়ের স্রোত কখনো থেমে থাকে না—জীবনও তার মতোই অবিরাম বয়ে চলে। শিশু ও কিশোরকাল পেরিয়ে, আটত্রিশ বছরের এক নিঃসঙ্গ অধ্যায় শেষে, হঠাৎই ইরানের তাবরিজ থেকে আসা এক ভ্রাম্যমাণ দরবেশ তার অন্তরকে সূর্যের মতো আলোড়িত করে। এই দরবেশের নাম শামস-ই তাবরিজ—তাবরিজের সূর্য।
এই সূর্যের সান্নিধ্যে ধীরে ধীরে বিদ্বান জালাল উদ্দিন ভেঙে পড়েন, আবার নতুন করে গড়ে ওঠেন। এভাবেই ধর্মতত্ত্বের শুষ্কতা থেকে উঠে আসে প্রেম ও আধ্যাত্মিকতার স্রোত। সেই স্রোত থেকে শূন্যে ভেসে ওঠে এক নতুন মানুষ—সুফি মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি।






