রিচার্ড ম্যাক্সয়েল ঈটন, সুপ্রিয়া গান্ধী, মুনিস ফারুকি, অড্রে ট্রুস্কে, রাজীব কিনরা, কপিল রাজ, বীণা তলোয়ার, রুবি লাল, প্রসন্নন পার্থসারথী, এবা কখ, জস গোমানস, ইরা মুখুটি, সঞ্জয় সুব্রহ্মণ্যম, সুশীল চৌধুরী বা বার্নার্ড কোহন (শেষ দু’জন অনেক আগেই শুরু করেছেন এবং প্রয়াত), নিকোলাস ড্রিক্স-এর মতো বেশ কয়েকজন ঐতিহাসিক, উপনিবেশ বিরোধী বিষয়াদির চর্চাকারীদের কঠিন কাজ সহজ করে করে দিয়েছেন।
প্রাতিষ্ঠানিক ঔপনিবেশিক ইতিহাস চর্চায়, বিশেষ করে বাংলা বা সামগ্রিক দক্ষিণ এশিয়াকে জানা ও বোঝার ক্ষেত্রে গত দুই শতক ধরে যে জগদ্দল ঔপনিবেশিক ইসলাম-ঘৃণাভিত্তিক নবজাগরণীয় নিগড় চেপে বসেছিল , সেই চেনা ছক ভেঙে দিয়ে শতাব্দী প্রাচীন জ্ঞানচর্চা কাঠামোর বাইরে চোখ রাখতে উৎসাহ দিচ্ছেন নতুন গবেষকেরা। প্রকাশিত হয়েছে বেশ কিছু অালোচনার আড়ালে থাকা তথ্য ও সূত্র।
ঔপনিবেশিক ইতিহাস যে সব অনৃত তথ্যের চাষাবাদ করেছিল, সেগুলোকেও সেঁকে নেওয়া হচ্ছে নতুন তথ্যের আলোকে। মুনিস ফারুখি মুঘল শাহজাদাদের বুঝতে ব্যবহার করেছেন মুঘল আমলে সারা দেশ থেকে দিল্লিতে পাঠানো গুপ্তচর বা ওয়াকিয়ানবিশদের সমীক্ষা। বক্ষ্যমাণ বই শাহজাহানের ব্রাহ্মণ সচিব মুন্সি চন্দর ভান-জীবন ও সময় মূলত লিখিত হয়েছে ঐতিহাসিক রাজীব কিনরার রাইটিং সেলফ রাইটিং এম্পায়ার-চন্দর ভান ব্রাহ্মণ অ্যান্ড দ্য কালচারাল ওয়ার্ল্ড অফ দ্য ইন্দো-পারসিয়ান স্টেট সেক্রেটারি এবং সংশ্লিষ্ট আরও কিছু বইয়ের তথ্য অনুসরণ করে। এই বইতে আমরা মুঘল আমলের একটা বড় অংশের সময়কে আধুনিক ঔপনিবেশিক পশ্চিমা ইতিহাস যে ধর্মান্ধতার সময় হিসেবে দেখেছে, সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্রাট শাহজাহানের মুন্সি চন্দর ভান ব্রাহ্মণের জীবন এবং সাহিত্যকর্ম দিয়ে খণ্ডন করার চেষ্টা করবো। এই বিষয়টিকেই কেন বেছে নিলাম কেনইবা উপনিবেশ বিরোধী চর্চায় চন্দর ভান ব্রাহ্মণের কাজ বোঝা জরুরি এই রকম কিছু আলোচনা ভূমিকায় সেরে নেব ঠিকই, কিন্তু সে আলাপ ক্রমশ বইয়ের ছত্রে ছত্রে চলতে থাকবে।