৪৮-৭২ ঘন্টায় ক্যাশ অন ডেলিভারি। ০১​৫​৮১১০০০০১​

ক্ষুদ্রঋণ, শিক্ষা, বেকারত্ব ও বিসিএস
ক্ষুদ্রঋণ, শিক্ষা, বেকারত্ব ও বিসিএস
337.50 ৳
450.00 ৳ (25% OFF)
সবার জন্য প্রোগ্রামিং
সবার জন্য প্রোগ্রামিং
262.50 ৳
350.00 ৳ (25% OFF)
30% OFF

রামমোহন ও তাঁর সময় : ভিন্ন চোখে

https://gronthik.com/web/image/product.template/275/image_1920?unique=795f18e

601.00 ৳ 601.0 BDT 925.00 ৳

925.00 ৳

Not Available For Sale


This combination does not exist.

Out of Stock
এই বই সম্পর্কে কাজী মাহমুদুল হক বলেছেন

লেখক দেবোত্তম চক্রবর্তী রামমোহনের জীবনের প্রতিটা কর্ম খুঁটিয়ে দেখিয়েছেন রামমোহনের সার্বিক জীবনপ্রবাহ।।হ্যাঁ, ভারত পথিক, রেঁনেসা পুরুষ,সতীদাহ প্রথার বিলোপকারী, ব্রাহ্মধর্মের প্রবর্তক। এন্তার সকল অনুসিদ্ধান্তের সার্বিক উপসংহার হলো এলিট রামমোহন রায় যিনি নিজ শ্রেনীস্বার্থের বাইরে কখনো পা মাড়াননি, চেষ্টাও করেননি।মাতৃভূমির প্রতি বা দেশের আপামর খেটেখাওয়া মানুষের প্রতি কমিটমেন্ট তাই প্রশ্নবিদ্ধ।অগনিত মানুষের দুর্বিসহ জীবনযাপন, প্ল্যানমাফিক একের পর এক দেশীয় শিল্প ধ্বংস,বেসুমার লুটপাট, মানুষকে অবর্ননীয় শারিরীক অত্যাচার..তাঁকে বিচলিত করেনি খুব একটা।


রামমোহন রায় এই বইটির মূল কেন্দ্রবিন্দু, তবু কোনও ভাবেই সেটি কেবল রামমোহন-কেন্দ্রিক নয়। যেহেতু রামমোহনের জন্মের সামান্য পূর্বের ও পরের ঐতিহাসিক ঘটনাবলির উল্লেখ ও বিশ্লেষণ না করলে তাঁর যথাযথ মূল্যায়ন সম্ভব নয়, সেহেতু এই গ্রন্থে উল্লিখিত ঘটনাবলি ১৭৫৭ সালের পলাশির যুদ্ধ থেকে ১৮৪৮-এ ব্রাহ্মধর্মের পুস্তক রচনা পর্যন্ত ব্যাপ্ত। সেই সুবাদেই বইটিতে এই দীর্ঘ প্রায় ৯০ বছরে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে নানা পরিবর্তনের বিশাল ইতিহাস স্থান পেয়েছে। 

রামমোহনের প্রথম জীবনী গ্রন্থ মেরি কার্পেন্টার-এর The Last Days in England of the Rajah Rammohun Roy (১৮৬৬) প্রকাশিত হয় বিদেশের মাটিতে। যদিও বইটি পাঠকের সামনে তাঁর ইংল্যান্ডের প্রবাসজীবনের চিত্র তুলে ধরে মাত্র। সেই হিসেবে রামমোহনের মৃত্যুর প্রায় ৫০ বছর পরে প্রকাশিত, নগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়-এর বিপুলায়তন মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত (মাঘ, ১২৮৮) গ্রন্থটিকে রামমোহনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনীর মর্যাদা দেওয়া চলে। এছাড়া সোফিয়া ডবসন কলেট-এর The Life and Letters of Raja Rammohun Roy (১৯০০) শীর্ষক জীবনচরিতটি থেকেও রামমোহনের জীবন ও কর্মের নানা হালহদিশ জানা যায়। 

তবে এই প্রাথমিক তিনটি জীবনী গ্রন্থই উনিশ শতকে রচিত হওয়ার ফলে সেগুলি নানা ভ্রমাত্মক তথ্যে পরিপূর্ণ। এই সমস্যার সমাধানের জন্য, সরকারি দফতরে রক্ষিত নানা নথিপত্র ও বিবিধ দুষ্প্রাপ্য সমসাময়িক সংবাদপত্রে লিখিত বিবরণের সাহায্যে শ্রদ্ধেয় গবেষক ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯২৬ থেকে ১৯৩৫ পর্যন্ত সুদীর্ঘ ৯ বছর ধরে একাদিক্রমে The Modern Review, The Calcutta Review, প্রবাসী ও বঙ্গশ্রী পত্রিকায় একাধিক মূল্যবান প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে তাঁর মিতায়তন Rajah Rammohun Roy’s Mission to England (Based on Unpublished Records) (১৯২৬) ও রামমোহন রায় (আষাঢ়, ১৩৪৯) জীবনী গ্রন্থদুটিতে এই প্রবন্ধাবলীর অংশবিশেষ প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রবন্ধাবলির কিছু তথ্যগত ত্রুটিকে চিহ্নিত করার জন্য, মাননীয় রমাপ্রসাদ চন্দ ১৩৪২ থেকে ১৩৪৫ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত মূলত প্রবাসী পত্রিকায় নানা তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধ রচনা করেন। রামমোহনের জীবনের প্রথম ৪০ বছরের নানা ঘটনার বিবরণের জন্য এই প্রবন্ধগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

নিছক জীবনচরিত না হলেও এই লেখায় গৃহীত হয়েছে প্রভাতচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়-এর রামমোহন প্রসঙ্গ (মাঘ, ১৩৫৩) ও দিলীপকুমার বিশ্বাস-এর রামমোহন-সমীক্ষা (১৯৭৩) গ্রন্থদুটির নানা মূল্যবান তথ্য। পাশাপাশি ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষে বিভিন্ন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রামমোহনের নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ আবেদন ও মন্তব্যের জন্য যেসব গ্রন্থের সাহায্য নেওয়া হয়েছে, সেগুলি সেই সম্পর্কিত অধ্যায়ের শেষে উল্লিখিত উল্লেখপঞ্জিতে বিশদে আলোচিত হয়েছে। ১৭৯৫ শকাব্দে রাজনারায়ণ বসু ও আনন্দচন্দ্র বেদান্তবাগীশের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় রাজা রামমোহন রায়-প্রণীত গ্রন্থাবলি, যদিও সেখানে রামমোহনের সমস্ত বাংলা রচনা অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এই অসম্পূর্ণতা মেটাতে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর পক্ষে ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সজনীকান্ত দাস-এর সম্পাদনায় সাত খণ্ডে প্রকাশিত হয় রামমোহন গ্রন্থাবলী (১৯৪৪-৫২)। বর্তমানে গ্রন্থটি দুষ্প্রাপ্য হওয়ায় রামমোহনের যাবতীয় বাংলা এবং সংস্কৃত ও ফারসি রচনার বঙ্গানুবাদের তথ্যসূত্র হিসেবে অজিতকুমার ঘোষ সম্পাদিত রামমোহন রচনাবলী (১৯৭৩)-কে বেছে নেওয়া হয়েছে। 

এই গ্রন্থটিকে রামমোহনের যাবতীয় লেখালেখির প্রামাণ্য রূপ হিসেবে বিবেচনা করার জন্য, তাঁর লিখিত কিছু বানান (চর্চ্চা, নির্ব্বাহ, তাৎপর্য্য ইত্যাদি)-কে ‘চর্চা’, ‘নির্বাহ’, ‘তাৎপর্য’ ইত্যাদি আকারে লেখা হয়েছে। রামমোহনের সমসাময়িক বাংলা সংবাদপত্রের বিভিন্ন প্রতিবেদন মূলত ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত সংবাদপত্রে সেকালের কথা (প্রথম খণ্ড ১৮১৮-১৮৩০, দ্বিতীয় খণ্ড ১৮৩০-১৮৪০) থেকে উদ্ধৃত হয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে হরিপদ ভৌমিক সংকলিত সেকালের সংবাদপত্রে কলকাতা, সমাচার দর্পণ ১৮১৮-১৮২২ (প্রথম খণ্ড ১৯৮৭) গ্রন্থটির সাহায্যও নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ লেখাপত্র বিনয় ঘোষ সম্পাদিত সাময়িকপত্রে বাংলার সমাজচিত্র (প্রথম খণ্ড-তৃতীয় খণ্ড, ২০১৫; চতুর্থ-পঞ্চম খণ্ড, ২০১৬; ষষ্ঠ খণ্ড ২০১৭) গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে। রেফ-এর পরে দ্বিত্ববর্জন হেতু সমকালীন অন্যান্য লেখকের লেখার নানা অংশ ও বিভিন্ন সমসাময়িক সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলির ক্ষেত্রেও এই বানানগত সাযুজ্য বজায় রাখা হয়েছে।  

সংস্কৃত শ্লোকের ক্ষেত্রে রামমোহন-ব্যবহৃত বানান অবিকৃত রাখা হয়েছে। মনুসংহিতা-র বিভিন্ন শ্লোকের জন্য মেধাতিথি ও কুল্লুকভট্টের ভাষ্য সংবলিত ভরতচন্দ্র শিরোমণি-র মনুসংহিতা (১৩৩৬) গ্রন্থটিকে ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও চলিত ভাষা ব্যবহারের কারণে, শ্লোকগুলির বাংলা অনুবাদের ক্ষেত্রে সামান্য স্বাধীনতা নিতে হয়েছে। ভারতীয় ধর্মশাস্ত্রের বিভিন্ন ব্যাখ্যার জন্য মহামহোপাধ্যায় পাণ্ডুরং বামন কাণে-র History of Dharmasastra: Ancient and Mediaeval Religious and Civil Law (১৯৪১) আকর গ্রন্থটির প্রভূত সাহায্য নেওয়া হয়েছে। মুদ্রণকার্যে সুবিধার জন্য সংস্কৃত ‘লুপ্ত অ’-কে [হ] রূপে লেখা হয়েছে। রামমোহনের নানাবিধ ইংরেজি প্রতিবেদন ও চিঠিপত্র প্রধানত রমাপ্রসাদ চন্দ ও যতীন্দ্রকুমার মজুমদার সম্পাদিত Selections from Official Letters and Documents Relating to the Life of Raja Rammohun Roy, Vol. I, 1791-1830 (১৯৩৮), যতীন্দ্রকুমার মজুমদার সম্পাদিত Rammohun Roy and Progressive Movements in India: A Selection from Records (1775-1845) (১৯৪১) এবং ড. কালিদাস নাগ ও দেবজ্যোতি বর্মন সম্পাদিত English Works of Raja Rammohun Roy, Part I-VII (১৯৫৮) গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। কেবল ইংল্যান্ডের পার্লামেন্ট সিলেক্ট কমিটিতে তাঁর লবণ শিল্প সম্পর্কিত সাক্ষ্যপ্রদানের অংশটি সুশোভন সরকার সম্পাদিত Rammohun Roy on Indian Economy (১৯৬৫) থেকে নেওয়া হয়েছে। 

তাঁর মৌলিক বাংলা রচনাগুলির সঙ্গে ভাষাগত পার্থক্য বোঝানোর জন্য, অনুবাদে চলিত ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে। অনুবাদ যতটা সম্ভব মূলানুগ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে লেখাটিতে ইংরেজি বাক্যগুলি অনুবাদের ক্ষেত্রে ভাষার সাবলীলতা বজায় রাখার কারণে কিছুটা স্বাধীনতা নিতে হয়েছে। রামমোহনের মূল ইংরেজি বয়ান ‘উল্লেখপঞ্জি’ অংশে দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, এই লেখায় ব্যবহৃত প্রত্যেকটি বাংলা, সংস্কৃত ও ইংরেজি উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে বানান ও যতিচিহ্ন যথাসম্ভব অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। লেখাটির শুরু থেকেই প্রচুর টীকা সংযোজিত হয়েছে। বিনা বাধায় মূল লেখাটি পড়ার জন্য, প্রত্যেকটি অধ্যায়ের একদম শেষে ‘উল্লেখপঞ্জি’ অংশে টীকাগুলি বিশদে বিবৃত হয়েছে। যাতে অনুসন্ধিৎসু ও উৎসাহী পাঠক ইচ্ছে করলে সেই তথ্যসূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে পড়তে পারেন, সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি পরোক্ষ তথ্যসূত্রের ক্ষেত্রে প্রথমে প্রত্যক্ষ সূত্রের উল্লেখ করা হয়েছে। 

এই বইটির শেষে সংযোজিত হয়েছে রামমোহনের সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি; সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাবলি; আদালতে সওয়ালের জন্য তৈরি করা প্রশ্নপত্র সহ নানা বিষয়ে রামমোহনের আবেদন, প্রতিবেদন ও চিঠিপত্র এবং একটি বিস্তারিত গ্রন্থপঞ্জি।

দেবোত্তম চক্রবর্ত্তী

জন্ম: ১৯৬৫। নিবাস: নবদ্বীপ। পেশা: শিক্ষকতা। উপনিবেশবিরোধী চর্চায় নিরন্তর নিয়োজিত এই মানুষটি ছাত্রপাঠ্য ইতিহাসের আড়ালে চলে যাওয়া ব্যক্তিবর্গ ও ঘটনাবলিকে উপযুক্ত সম্মান জানিয়ে পাদপ্রদীপের আলোয় তুলে আনার চেষ্টা করেন। উনিশ ও বিশ শতকে বাংলার অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির নানা বাঁকবদলের হালহদিশ খুঁজে বার করে উপনিবেশের তৈরি নানা মিথ ভাঙতে সতত সচেষ্ট। কলকাতার একটি প্রতিষ্ঠিত দৈনিকে আমন্ত্রিত লেখক হিসেবে সমকালীন সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে অনিয়মিতভাবে ফিচার লিখে থাকেন। গ্রন্থিক থেকেই প্রকাশিত হয়েছে তাঁর পূর্ববর্তী গ্রন্থ বিদ্যাসাগর: নির্মাণ-বিনির্মাণ-পুনর্নির্মাণ। অপ্রচলিত বইপত্তর পড়া ও টুকটাক লেখালেখি ছাড়া তাঁর অন্যতম শখ ভারতীয় ডাকটিকিট ও মুদ্রা সংগ্রহ।

Writer

দেবোত্তম চক্রবর্ত্তী

Publisher

গ্রন্থিক প্রকাশন

ISBN

9789849649090

Language

বাংলা

Country

Bangladesh

Format

হার্ডব্যাক

Edition

1st

First Published

অমর একুশে বইমেলা ২০২২

Pages

536

রামমোহন রায় এই বইটির মূল কেন্দ্রবিন্দু, তবু কোনও ভাবেই সেটি কেবল রামমোহন-কেন্দ্রিক নয়। যেহেতু রামমোহনের জন্মের সামান্য পূর্বের ও পরের ঐতিহাসিক ঘটনাবলির উল্লেখ ও বিশ্লেষণ না করলে তাঁর যথাযথ মূল্যায়ন সম্ভব নয়, সেহেতু এই গ্রন্থে উল্লিখিত ঘটনাবলি ১৭৫৭ সালের পলাশির যুদ্ধ থেকে ১৮৪৮-এ ব্রাহ্মধর্মের পুস্তক রচনা পর্যন্ত ব্যাপ্ত। সেই সুবাদেই বইটিতে এই দীর্ঘ প্রায় ৯০ বছরে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে নানা পরিবর্তনের বিশাল ইতিহাস স্থান পেয়েছে। 

রামমোহনের প্রথম জীবনী গ্রন্থ মেরি কার্পেন্টার-এর The Last Days in England of the Rajah Rammohun Roy (১৮৬৬) প্রকাশিত হয় বিদেশের মাটিতে। যদিও বইটি পাঠকের সামনে তাঁর ইংল্যান্ডের প্রবাসজীবনের চিত্র তুলে ধরে মাত্র। সেই হিসেবে রামমোহনের মৃত্যুর প্রায় ৫০ বছর পরে প্রকাশিত, নগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়-এর বিপুলায়তন মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত (মাঘ, ১২৮৮) গ্রন্থটিকে রামমোহনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনীর মর্যাদা দেওয়া চলে। এছাড়া সোফিয়া ডবসন কলেট-এর The Life and Letters of Raja Rammohun Roy (১৯০০) শীর্ষক জীবনচরিতটি থেকেও রামমোহনের জীবন ও কর্মের নানা হালহদিশ জানা যায়। 

তবে এই প্রাথমিক তিনটি জীবনী গ্রন্থই উনিশ শতকে রচিত হওয়ার ফলে সেগুলি নানা ভ্রমাত্মক তথ্যে পরিপূর্ণ। এই সমস্যার সমাধানের জন্য, সরকারি দফতরে রক্ষিত নানা নথিপত্র ও বিবিধ দুষ্প্রাপ্য সমসাময়িক সংবাদপত্রে লিখিত বিবরণের সাহায্যে শ্রদ্ধেয় গবেষক ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯২৬ থেকে ১৯৩৫ পর্যন্ত সুদীর্ঘ ৯ বছর ধরে একাদিক্রমে The Modern Review, The Calcutta Review, প্রবাসী ও বঙ্গশ্রী পত্রিকায় একাধিক মূল্যবান প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে তাঁর মিতায়তন Rajah Rammohun Roy’s Mission to England (Based on Unpublished Records) (১৯২৬) ও রামমোহন রায় (আষাঢ়, ১৩৪৯) জীবনী গ্রন্থদুটিতে এই প্রবন্ধাবলীর অংশবিশেষ প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রবন্ধাবলির কিছু তথ্যগত ত্রুটিকে চিহ্নিত করার জন্য, মাননীয় রমাপ্রসাদ চন্দ ১৩৪২ থেকে ১৩৪৫ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত মূলত প্রবাসী পত্রিকায় নানা তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধ রচনা করেন। রামমোহনের জীবনের প্রথম ৪০ বছরের নানা ঘটনার বিবরণের জন্য এই প্রবন্ধগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

নিছক জীবনচরিত না হলেও এই লেখায় গৃহীত হয়েছে প্রভাতচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়-এর রামমোহন প্রসঙ্গ (মাঘ, ১৩৫৩) ও দিলীপকুমার বিশ্বাস-এর রামমোহন-সমীক্ষা (১৯৭৩) গ্রন্থদুটির নানা মূল্যবান তথ্য। পাশাপাশি ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষে বিভিন্ন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রামমোহনের নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ আবেদন ও মন্তব্যের জন্য যেসব গ্রন্থের সাহায্য নেওয়া হয়েছে, সেগুলি সেই সম্পর্কিত অধ্যায়ের শেষে উল্লিখিত উল্লেখপঞ্জিতে বিশদে আলোচিত হয়েছে। ১৭৯৫ শকাব্দে রাজনারায়ণ বসু ও আনন্দচন্দ্র বেদান্তবাগীশের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় রাজা রামমোহন রায়-প্রণীত গ্রন্থাবলি, যদিও সেখানে রামমোহনের সমস্ত বাংলা রচনা অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এই অসম্পূর্ণতা মেটাতে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর পক্ষে ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সজনীকান্ত দাস-এর সম্পাদনায় সাত খণ্ডে প্রকাশিত হয় রামমোহন গ্রন্থাবলী (১৯৪৪-৫২)। বর্তমানে গ্রন্থটি দুষ্প্রাপ্য হওয়ায় রামমোহনের যাবতীয় বাংলা এবং সংস্কৃত ও ফারসি রচনার বঙ্গানুবাদের তথ্যসূত্র হিসেবে অজিতকুমার ঘোষ সম্পাদিত রামমোহন রচনাবলী (১৯৭৩)-কে বেছে নেওয়া হয়েছে। 

এই গ্রন্থটিকে রামমোহনের যাবতীয় লেখালেখির প্রামাণ্য রূপ হিসেবে বিবেচনা করার জন্য, তাঁর লিখিত কিছু বানান (চর্চ্চা, নির্ব্বাহ, তাৎপর্য্য ইত্যাদি)-কে ‘চর্চা’, ‘নির্বাহ’, ‘তাৎপর্য’ ইত্যাদি আকারে লেখা হয়েছে। রামমোহনের সমসাময়িক বাংলা সংবাদপত্রের বিভিন্ন প্রতিবেদন মূলত ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত সংবাদপত্রে সেকালের কথা (প্রথম খণ্ড ১৮১৮-১৮৩০, দ্বিতীয় খণ্ড ১৮৩০-১৮৪০) থেকে উদ্ধৃত হয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে হরিপদ ভৌমিক সংকলিত সেকালের সংবাদপত্রে কলকাতা, সমাচার দর্পণ ১৮১৮-১৮২২ (প্রথম খণ্ড ১৯৮৭) গ্রন্থটির সাহায্যও নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ লেখাপত্র বিনয় ঘোষ সম্পাদিত সাময়িকপত্রে বাংলার সমাজচিত্র (প্রথম খণ্ড-তৃতীয় খণ্ড, ২০১৫; চতুর্থ-পঞ্চম খণ্ড, ২০১৬; ষষ্ঠ খণ্ড ২০১৭) গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে। রেফ-এর পরে দ্বিত্ববর্জন হেতু সমকালীন অন্যান্য লেখকের লেখার নানা অংশ ও বিভিন্ন সমসাময়িক সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলির ক্ষেত্রেও এই বানানগত সাযুজ্য বজায় রাখা হয়েছে।  

সংস্কৃত শ্লোকের ক্ষেত্রে রামমোহন-ব্যবহৃত বানান অবিকৃত রাখা হয়েছে। মনুসংহিতা-র বিভিন্ন শ্লোকের জন্য মেধাতিথি ও কুল্লুকভট্টের ভাষ্য সংবলিত ভরতচন্দ্র শিরোমণি-র মনুসংহিতা (১৩৩৬) গ্রন্থটিকে ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও চলিত ভাষা ব্যবহারের কারণে, শ্লোকগুলির বাংলা অনুবাদের ক্ষেত্রে সামান্য স্বাধীনতা নিতে হয়েছে। ভারতীয় ধর্মশাস্ত্রের বিভিন্ন ব্যাখ্যার জন্য মহামহোপাধ্যায় পাণ্ডুরং বামন কাণে-র History of Dharmasastra: Ancient and Mediaeval Religious and Civil Law (১৯৪১) আকর গ্রন্থটির প্রভূত সাহায্য নেওয়া হয়েছে। মুদ্রণকার্যে সুবিধার জন্য সংস্কৃত ‘লুপ্ত অ’-কে [হ] রূপে লেখা হয়েছে। রামমোহনের নানাবিধ ইংরেজি প্রতিবেদন ও চিঠিপত্র প্রধানত রমাপ্রসাদ চন্দ ও যতীন্দ্রকুমার মজুমদার সম্পাদিত Selections from Official Letters and Documents Relating to the Life of Raja Rammohun Roy, Vol. I, 1791-1830 (১৯৩৮), যতীন্দ্রকুমার মজুমদার সম্পাদিত Rammohun Roy and Progressive Movements in India: A Selection from Records (1775-1845) (১৯৪১) এবং ড. কালিদাস নাগ ও দেবজ্যোতি বর্মন সম্পাদিত English Works of Raja Rammohun Roy, Part I-VII (১৯৫৮) গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। কেবল ইংল্যান্ডের পার্লামেন্ট সিলেক্ট কমিটিতে তাঁর লবণ শিল্প সম্পর্কিত সাক্ষ্যপ্রদানের অংশটি সুশোভন সরকার সম্পাদিত Rammohun Roy on Indian Economy (১৯৬৫) থেকে নেওয়া হয়েছে। 

তাঁর মৌলিক বাংলা রচনাগুলির সঙ্গে ভাষাগত পার্থক্য বোঝানোর জন্য, অনুবাদে চলিত ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে। অনুবাদ যতটা সম্ভব মূলানুগ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে লেখাটিতে ইংরেজি বাক্যগুলি অনুবাদের ক্ষেত্রে ভাষার সাবলীলতা বজায় রাখার কারণে কিছুটা স্বাধীনতা নিতে হয়েছে। রামমোহনের মূল ইংরেজি বয়ান ‘উল্লেখপঞ্জি’ অংশে দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, এই লেখায় ব্যবহৃত প্রত্যেকটি বাংলা, সংস্কৃত ও ইংরেজি উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে বানান ও যতিচিহ্ন যথাসম্ভব অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। লেখাটির শুরু থেকেই প্রচুর টীকা সংযোজিত হয়েছে। বিনা বাধায় মূল লেখাটি পড়ার জন্য, প্রত্যেকটি অধ্যায়ের একদম শেষে ‘উল্লেখপঞ্জি’ অংশে টীকাগুলি বিশদে বিবৃত হয়েছে। যাতে অনুসন্ধিৎসু ও উৎসাহী পাঠক ইচ্ছে করলে সেই তথ্যসূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে পড়তে পারেন, সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি পরোক্ষ তথ্যসূত্রের ক্ষেত্রে প্রথমে প্রত্যক্ষ সূত্রের উল্লেখ করা হয়েছে। 

এই বইটির শেষে সংযোজিত হয়েছে রামমোহনের সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি; সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাবলি; আদালতে সওয়ালের জন্য তৈরি করা প্রশ্নপত্র সহ নানা বিষয়ে রামমোহনের আবেদন, প্রতিবেদন ও চিঠিপত্র এবং একটি বিস্তারিত গ্রন্থপঞ্জি।

Writer

দেবোত্তম চক্রবর্ত্তী

Publisher

গ্রন্থিক প্রকাশন

ISBN

9789849649090

Language

বাংলা

Country

Bangladesh

Format

হার্ডব্যাক

Edition

1st

First Published

অমর একুশে বইমেলা ২০২২

Pages

536

একই বিষয়ের অন্যান্য বই
জনপ্রিয় বই
রিসেন্ট ভিউ বই
Your Dynamic Snippet will be displayed here... This message is displayed because you did not provided both a filter and a template to use.
WhatsApp Icon