সাধারণভাবে, রাজত্ব দ্বারা আমরা যা বুঝি তা হলো কোন বিশাল এলাকার (রাজ্যের)-‘রাজা কিংবা সম্রাটের দ্বারা রাজ্য পরিচালনা করা । আর, ব্যাকটেরিয়ার-রাজত্বের রাজত্বটা হলো ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা তার রাজ্য পরিচালনা। শুনতেই কেমন অদ্ভুত তাই না। অতি ক্ষুদ্র যা কি না খালি চোখে দেখাই যায় না, তার আবার রাজত্ব! আজব কথা আসলেই। ব্যাপারটা আরেকটু খোলসা করা যাক। মানুষের রাজ্য বা সীমানার চেয়ে কিন্তু ব্যাকটেরিয়ার রাজ্য অনেক গুণ বড়। কেননা, তাদের রাজ্যটা হলো স্বয়ং মানুষ থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রাণী, মাটি, পানি, বায়ু অর্থাৎ চারপাশের পুরা পরিবেশটাই। এসব রাজ্য পরিচালনা করেন জনাব- ‘ব্যাকটেরিয়াম’। কেননা পরিবেশের সকল জায়গাতেই তার উপস্থিতি মিলে। কোথায় নেই সে! মানুষের যেসব জায়গাতে পৌঁছানোর সুযোগ হয় নি সেখানে পর্যন্ত তাদের পাওয়া যাবে। সমুদ্রের গভীরে যেখানে চাপ অনেক বেশি, অক্সিজেনের উপস্থিতি নেই, এমনকি অন্য কোন প্রাণীর উপস্থিতি না মিললেও মিলবে এই ব্যাকটেরিয়া। মানুষের বসবাসের পূর্বে কিন্তু পৃথিবী ছিলো অতি উত্তপ্ত এবং বসবাসের অনুপযোগী এবং পৃথিবীতে প্রথম জীবন হিসেবে উত্তপ্ত পরিবেশেও এই ব্যাকটেরিয়াকেই ধরা হয়। কি এবার কি একটু অবাক মনে হচ্ছে? পূর্ণগঠিত ব্যাকটেরিয়াম যা একটি মাত্র কোষ দিয়ে তৈরি, যেখানে আমাদের শরীর কোটি কোটি কোষের সমন্বয়ে গঠিত এবং পৃথিবীতে জীবনের প্রথম রূপ-এই এককোষী ব্যাকটেরিয়া, কত পুরানো তা শুনলে আরো অবাক হতে হবে। আণুমানিক ৪০০ কোটি বছর হবে সেটি! বিজ্ঞানের ভাষায় যুগে যুগে কত প্রাণী এসেছে আবার তা বিলীনও হয়ে গেছে। ডাইনোসরের কথাই ধরা যাক। ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি বছর পূর্বে একটি বিধ্বংসী প্রাকৃতিক বিপর্যয় ডাইনোসরদের প্রভাবকে পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে দেয়। জীবাশ্ম দ্বারা প্রাপ্ত নিদর্শন থেকে জুরাসিক যুগে সংঘটিত এই বিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়। অথচ, এই ব্যাকটেরিয়া শুরুর কঠিন পরিবেশে যেমন টিকে ছিলো আর এখনো টিকে আছে! ৩০০ কোটি বছর পূর্বেও বেশির ভাগ অণুজীবই ছিলো আণুবীক্ষণিক সে সময় ব্যাকটেরিয়া এবং আরকিয়া (অৎপযধবধ) ই ছিলো জীবনের প্রধান রূপ। তবে, বর্তমানে যে সকল ব্যাকটেরিয়া এবং আরকিয়া পাওয়া যায় তা ছিলো হাইপার-থার্মোফাইল (উচ্চ-তাপমাত্রা সহ্যকারি) এর অন্তর্গত, যা কিনা ২৫০-৩২০ কোটি বছর আগের। এই ২০১৮ সালের জুলাই মাসেই বিজ্ঞানীরা বলেছেন-পৃথিবীতে প্রথম জীবনই হলো এই ব্যাকটেরিয়া। অর্থাৎ, যারা শুরু থেকে এখনও টিকে আছে তারাই তো বর্তমান পৃথিবীর শাসক তাই নয় কি? বইটির নাম ‘ব্যাকটেরিয়ার রাজত্ব দেয়ার মূল কারণ হলো: রাজত্ব বলতে এখানে মূলত বিস্তৃত পরিবেশে ব্যাকটেরিয়ার বিরাজমান থাকা কিংবা, নানা যুদ্ধ কিংবা প্রতিকূল পরিবেশেও (যেমন: অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতিতে) টিকে থেকে নিজের অস্তিত্ব জানান দেয়ার যোগ্যতাকেই বুঝানো হয়েছে।
ব্যাকটেরিয়ার রাজত্ব
Writer |
|
Publisher |
|
ISBN |
9789849481430 |
Language |
বাংলা |
Country |
Bangladesh |
Format |
পেপারব্যাক |
First Published |
অমর একুশে বইমেলা ২০২০ |
Pages |
136 |
সাধারণভাবে, রাজত্ব দ্বারা আমরা যা বুঝি তা হলো কোন বিশাল এলাকার (রাজ্যের)-‘রাজা কিংবা সম্রাটের দ্বারা রাজ্য পরিচালনা করা । আর, ব্যাকটেরিয়ার-রাজত্বের রাজত্বটা হলো ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা তার রাজ্য পরিচালনা। শুনতেই কেমন অদ্ভুত তাই না। অতি ক্ষুদ্র যা কি না খালি চোখে দেখাই যায় না, তার আবার রাজত্ব! আজব কথা আসলেই। ব্যাপারটা আরেকটু খোলসা করা যাক। মানুষের রাজ্য বা সীমানার চেয়ে কিন্তু ব্যাকটেরিয়ার রাজ্য অনেক গুণ বড়। কেননা, তাদের রাজ্যটা হলো স্বয়ং মানুষ থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রাণী, মাটি, পানি, বায়ু অর্থাৎ চারপাশের পুরা পরিবেশটাই। এসব রাজ্য পরিচালনা করেন জনাব- ‘ব্যাকটেরিয়াম’। কেননা পরিবেশের সকল জায়গাতেই তার উপস্থিতি মিলে। কোথায় নেই সে! মানুষের যেসব জায়গাতে পৌঁছানোর সুযোগ হয় নি সেখানে পর্যন্ত তাদের পাওয়া যাবে। সমুদ্রের গভীরে যেখানে চাপ অনেক বেশি, অক্সিজেনের উপস্থিতি নেই, এমনকি অন্য কোন প্রাণীর উপস্থিতি না মিললেও মিলবে এই ব্যাকটেরিয়া। মানুষের বসবাসের পূর্বে কিন্তু পৃথিবী ছিলো অতি উত্তপ্ত এবং বসবাসের অনুপযোগী এবং পৃথিবীতে প্রথম জীবন হিসেবে উত্তপ্ত পরিবেশেও এই ব্যাকটেরিয়াকেই ধরা হয়। কি এবার কি একটু অবাক মনে হচ্ছে? পূর্ণগঠিত ব্যাকটেরিয়াম যা একটি মাত্র কোষ দিয়ে তৈরি, যেখানে আমাদের শরীর কোটি কোটি কোষের সমন্বয়ে গঠিত এবং পৃথিবীতে জীবনের প্রথম রূপ-এই এককোষী ব্যাকটেরিয়া, কত পুরানো তা শুনলে আরো অবাক হতে হবে। আণুমানিক ৪০০ কোটি বছর হবে সেটি! বিজ্ঞানের ভাষায় যুগে যুগে কত প্রাণী এসেছে আবার তা বিলীনও হয়ে গেছে। ডাইনোসরের কথাই ধরা যাক। ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি বছর পূর্বে একটি বিধ্বংসী প্রাকৃতিক বিপর্যয় ডাইনোসরদের প্রভাবকে পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে দেয়। জীবাশ্ম দ্বারা প্রাপ্ত নিদর্শন থেকে জুরাসিক যুগে সংঘটিত এই বিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়। অথচ, এই ব্যাকটেরিয়া শুরুর কঠিন পরিবেশে যেমন টিকে ছিলো আর এখনো টিকে আছে! ৩০০ কোটি বছর পূর্বেও বেশির ভাগ অণুজীবই ছিলো আণুবীক্ষণিক সে সময় ব্যাকটেরিয়া এবং আরকিয়া (অৎপযধবধ) ই ছিলো জীবনের প্রধান রূপ। তবে, বর্তমানে যে সকল ব্যাকটেরিয়া এবং আরকিয়া পাওয়া যায় তা ছিলো হাইপার-থার্মোফাইল (উচ্চ-তাপমাত্রা সহ্যকারি) এর অন্তর্গত, যা কিনা ২৫০-৩২০ কোটি বছর আগের। এই ২০১৮ সালের জুলাই মাসেই বিজ্ঞানীরা বলেছেন-পৃথিবীতে প্রথম জীবনই হলো এই ব্যাকটেরিয়া। অর্থাৎ, যারা শুরু থেকে এখনও টিকে আছে তারাই তো বর্তমান পৃথিবীর শাসক তাই নয় কি? বইটির নাম ‘ব্যাকটেরিয়ার রাজত্ব দেয়ার মূল কারণ হলো: রাজত্ব বলতে এখানে মূলত বিস্তৃত পরিবেশে ব্যাকটেরিয়ার বিরাজমান থাকা কিংবা, নানা যুদ্ধ কিংবা প্রতিকূল পরিবেশেও (যেমন: অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতিতে) টিকে থেকে নিজের অস্তিত্ব জানান দেয়ার যোগ্যতাকেই বুঝানো হয়েছে।
Writer |
|
Publisher |
|
ISBN |
9789849481430 |
Language |
বাংলা |
Country |
Bangladesh |
Format |
পেপারব্যাক |
First Published |
অমর একুশে বইমেলা ২০২০ |
Pages |
136 |