একাত্তরের ঘাতকদের বিচারে মুসলিম আইডেন্টিটির অপব্যবহার লিখবার ইচ্ছেটা বাংলাদেশে চলমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়াকে নানাবিধভাবে দেখবার ইচ্ছে থেকেই। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কিংবা মুক্তিযুদ্ধের পর পর শুরু হওয়া দালাল আইন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করবার সুবাদে এই পুরো বিচারের বিষয় নিয়ে আমার আগ্রহ অনেক পুরনো। বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন এক ধারণা ও ডাইমেনশনে ভাববার মধ্যেও এক ধরনের তীব্রতা আছে যেটি এই লেখার প্রতিটি মুহূর্তে আমি অনুভব করেছি। এই সুনির্দিষ্ট বিষয়ে বই লিখবার ভাবনাটা মূলত এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযুক্তদের পক্ষে বিচারিক যুক্তি তর্কের নানাবিধ প্যাটার্ন লক্ষ্য করে। কেননা, এই বিচারের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত তার পক্ষে যখন সাফাই দিচ্ছিলো তখন বারবার যে যুক্তিটি আদালতে উপস্থাপন করেছিল সেটি হচ্ছে, আমরা যা করেছি সেটি ইসলামকে রক্ষা করবার জন্য। আর এই ইসলাম রক্ষার যুক্তি হিসেবে সামনে চলে এসেছে পবিত্র কোরআন শরীফের আয়াত ও সেটির নানাবিধ অপব্যাখ্যা। মুক্তিযুদ্ধের পরপর ঘাতক রাজাকার, আলবদরদের বিচার যখন ১৯৭২ সালের দালাল আইনের অধীনে শুরু হলো তখন একেবারে গুনে গুনে প্রায় প্রতিটি অপরাধী আদালতের আসামি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারকদের প্রতি বলেছিল, ‘আমরা ইসলামকে রক্ষা করবার জন্যই উদ্যো� �ী হয়েছিলাম, আমরা অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না’। উপরের এই অপরাধ অস্বীকার বয়ান ঠিক যেমন করেছে সে সময় ‘গরু-ছাগল চুরি করা’ প্রান্তিক পর্যায়ের রাজাকাররা, ঠিক একইভাব এই একই অস্বীকার বয়ানের হুবুহু মিল আমরা দেখতে পাই ভয়াবহ, খুনে ঘাতকদের জবানিতেও। মানে দাঁড়ালো, এটা যেমন বলছিল ছাগল চুরি করা মতি রাজাকার, এই একই কথা বলেছিল ভয়ংকর মালেক, খালেক, সবুর, নুরুল আমীন, শাহ আজিজ প্রমুখ রাজাকারেরাও। আবার এই বিচারের পর প্রায় ৩৯ বছর পেরিয়ে যখন ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বাকি ঘাতকদের বিচার শুরু হলো তখন ঠিক একইভাবে এবং সেই প্রাক্তন একই সুরে ঐ ঘাতকেরা কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বললো, ‘আমরা ইসলামকে বাঁচাতে উদ্যোগী ছিলাম। আমরা অপরাধ করিনি’ অপরাধীদের এই চিরচেনা বয়ানের সাথে সাথে এই পর্বে অবশ্য যোগ দিয়েছিল এইসব অপরাধীদের দলীয় সমর্থক (কেননা এই ৩৯ বছরে এরা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এদের সা¤্রাজ্য ক্রমাগতভাবে শক্তিশালী হয়েছে), তাদের লবিস্ট, অন্য রাজনৈতিক দলের সমর্থক, নেতারা। এই পুরো ব্যাপারটার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের সামনে যে প্রশ্ন এসে যায় সেটি হচ্ছে, ‘এই ধর্মকে ব্যবহার আদালত ঠিক কিভাবে দেখছে?’ আর এই সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দিতেই উল্লেখিত বইটি। ‘একাত্তরের ঘাতকদের বিচারে মুসলিম আইডেন্টিটির অপব্যবহার’ গ্রন্থটিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়েছে যে ঘাতকদের এই ইসলামী ঢালের বয়ানকে আদালত কতটা দক্ষতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন, কত স্পষ্টভাবে পাল্টা যুক্তি দিয়ে বিচারপ্রার্থীদের সামনে এনেছেন। পুরো গ্রন্থটিই হচ্ছে ইতিহাস, ধর্ম আর আইনের এক যুগল যেখানে প্রথমবারের মতো দালাল আইনের দুষ্প্রাপ্য সকল মামলার রেফারেন্স, আন্তর্জাতিক আদালতের মামলার রেফারেন্সসহ এইসব ঘাতকদের লিখিত বইকে একটা একটা করে ব্যবচ্ছেদ করা হয়েছে। এক কথায় এই বইয়ের উপজীব্য হচ্ছে অপরাধীদের ইসলামী ঢাল বনাম আদালতের বিচারকদের যুক্তির তীর। ধর্মকে কিভাবে বিচারকরা আলাদা করে নিয়ে এসে ঘাতকদের করাল গ্রাস থেকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এই বইটি সে দক্ষতার কথাই বলেছে বার বার। বিচারকরা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন তীব্রভাবে। ধর্মের এই ব্যবহারকে আদালত কিভাবে দেখেছে? মাননীয় বিচারপতিরা এই ধর্ম ব্যবহারের প্রেক্ষিতে তাঁদের সুচিন্তিত পর্যবেক্ষণকে ঠিক কোন যুক্তিতে কিংবা ঠিক কোন প্যাটার্নে ব্যাখ্যা করেছেন অভিযুক্তদের এইসব যুক্তির প্রেক্ষিতে? আমার এই বইটি মূলত এইরকম একটা অবস্থাকে পাঠকদের সামনে তুলে ধরবার ইচ্ছে থেকেই লিখিত হয়েছে। এই বইটি যদি কোনো পাঠককে একটু ভাবতে বা চিন্তা করবারও উপাদান যোগাতে সাহায্য করে তবেই আমি মনে করব আমার পরিশ্রম স্বার্থক হয়েছে।
একাত্তরের ঘাতকদের বিচারে মুসলিম আইডেন্টিটি’র অপব্যবহার
Writer |
|
Publisher |
|
ISBN |
978-984-95407-5-5 |
Language |
বাংলা |
Country |
Bangladesh |
Format |
হার্ডব্যাক |
First Published |
অমর একুশে বইমেলা ২০২১ |
Pages |
152 |
একাত্তরের ঘাতকদের বিচারে মুসলিম আইডেন্টিটির অপব্যবহার লিখবার ইচ্ছেটা বাংলাদেশে চলমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়াকে নানাবিধভাবে দেখবার ইচ্ছে থেকেই। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কিংবা মুক্তিযুদ্ধের পর পর শুরু হওয়া দালাল আইন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করবার সুবাদে এই পুরো বিচারের বিষয় নিয়ে আমার আগ্রহ অনেক পুরনো। বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন এক ধারণা ও ডাইমেনশনে ভাববার মধ্যেও এক ধরনের তীব্রতা আছে যেটি এই লেখার প্রতিটি মুহূর্তে আমি অনুভব করেছি। এই সুনির্দিষ্ট বিষয়ে বই লিখবার ভাবনাটা মূলত এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযুক্তদের পক্ষে বিচারিক যুক্তি তর্কের নানাবিধ প্যাটার্ন লক্ষ্য করে। কেননা, এই বিচারের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত তার পক্ষে যখন সাফাই দিচ্ছিলো তখন বারবার যে যুক্তিটি আদালতে উপস্থাপন করেছিল সেটি হচ্ছে, আমরা যা করেছি সেটি ইসলামকে রক্ষা করবার জন্য। আর এই ইসলাম রক্ষার যুক্তি হিসেবে সামনে চলে এসেছে পবিত্র কোরআন শরীফের আয়াত ও সেটির নানাবিধ অপব্যাখ্যা। মুক্তিযুদ্ধের পরপর ঘাতক রাজাকার, আলবদরদের বিচার যখন ১৯৭২ সালের দালাল আইনের অধীনে শুরু হলো তখন একেবারে গুনে গুনে প্রায় প্রতিটি অপরাধী আদালতের আসামি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারকদের প্রতি বলেছিল, ‘আমরা ইসলামকে রক্ষা করবার জন্যই উদ্যো� �ী হয়েছিলাম, আমরা অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না’। উপরের এই অপরাধ অস্বীকার বয়ান ঠিক যেমন করেছে সে সময় ‘গরু-ছাগল চুরি করা’ প্রান্তিক পর্যায়ের রাজাকাররা, ঠিক একইভাব এই একই অস্বীকার বয়ানের হুবুহু মিল আমরা দেখতে পাই ভয়াবহ, খুনে ঘাতকদের জবানিতেও। মানে দাঁড়ালো, এটা যেমন বলছিল ছাগল চুরি করা মতি রাজাকার, এই একই কথা বলেছিল ভয়ংকর মালেক, খালেক, সবুর, নুরুল আমীন, শাহ আজিজ প্রমুখ রাজাকারেরাও। আবার এই বিচারের পর প্রায় ৩৯ বছর পেরিয়ে যখন ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বাকি ঘাতকদের বিচার শুরু হলো তখন ঠিক একইভাবে এবং সেই প্রাক্তন একই সুরে ঐ ঘাতকেরা কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বললো, ‘আমরা ইসলামকে বাঁচাতে উদ্যোগী ছিলাম। আমরা অপরাধ করিনি’ অপরাধীদের এই চিরচেনা বয়ানের সাথে সাথে এই পর্বে অবশ্য যোগ দিয়েছিল এইসব অপরাধীদের দলীয় সমর্থক (কেননা এই ৩৯ বছরে এরা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এদের সা¤্রাজ্য ক্রমাগতভাবে শক্তিশালী হয়েছে), তাদের লবিস্ট, অন্য রাজনৈতিক দলের সমর্থক, নেতারা। এই পুরো ব্যাপারটার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের সামনে যে প্রশ্ন এসে যায় সেটি হচ্ছে, ‘এই ধর্মকে ব্যবহার আদালত ঠিক কিভাবে দেখছে?’ আর এই সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দিতেই উল্লেখিত বইটি। ‘একাত্তরের ঘাতকদের বিচারে মুসলিম আইডেন্টিটির অপব্যবহার’ গ্রন্থটিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়েছে যে ঘাতকদের এই ইসলামী ঢালের বয়ানকে আদালত কতটা দক্ষতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন, কত স্পষ্টভাবে পাল্টা যুক্তি দিয়ে বিচারপ্রার্থীদের সামনে এনেছেন। পুরো গ্রন্থটিই হচ্ছে ইতিহাস, ধর্ম আর আইনের এক যুগল যেখানে প্রথমবারের মতো দালাল আইনের দুষ্প্রাপ্য সকল মামলার রেফারেন্স, আন্তর্জাতিক আদালতের মামলার রেফারেন্সসহ এইসব ঘাতকদের লিখিত বইকে একটা একটা করে ব্যবচ্ছেদ করা হয়েছে। এক কথায় এই বইয়ের উপজীব্য হচ্ছে অপরাধীদের ইসলামী ঢাল বনাম আদালতের বিচারকদের যুক্তির তীর। ধর্মকে কিভাবে বিচারকরা আলাদা করে নিয়ে এসে ঘাতকদের করাল গ্রাস থেকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এই বইটি সে দক্ষতার কথাই বলেছে বার বার। বিচারকরা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন তীব্রভাবে। ধর্মের এই ব্যবহারকে আদালত কিভাবে দেখেছে? মাননীয় বিচারপতিরা এই ধর্ম ব্যবহারের প্রেক্ষিতে তাঁদের সুচিন্তিত পর্যবেক্ষণকে ঠিক কোন যুক্তিতে কিংবা ঠিক কোন প্যাটার্নে ব্যাখ্যা করেছেন অভিযুক্তদের এইসব যুক্তির প্রেক্ষিতে? আমার এই বইটি মূলত এইরকম একটা অবস্থাকে পাঠকদের সামনে তুলে ধরবার ইচ্ছে থেকেই লিখিত হয়েছে। এই বইটি যদি কোনো পাঠককে একটু ভাবতে বা চিন্তা করবারও উপাদান যোগাতে সাহায্য করে তবেই আমি মনে করব আমার পরিশ্রম স্বার্থক হয়েছে।
Writer |
|
Publisher |
|
ISBN |
978-984-95407-5-5 |
Language |
বাংলা |
Country |
Bangladesh |
Format |
হার্ডব্যাক |
First Published |
অমর একুশে বইমেলা ২০২১ |
Pages |
152 |