আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ), তার গত ১১ বছরের যাত্রায় নানাবিধ মিথ্যে প্রােপাগান্ডার মধ্যে দিয়ে গেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে সংঘঠিত নানাবিধ আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করবার জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ৩৯ বছর পর এই ট্রাইব্যুনালটি গঠিত হয়। যদিও এই ট্রাইব্যুনালের আইনটি ১৯৭৩ সালে সংবিধানের প্রথম সংশােধনীর মাধ্যমে প্রণীত হয়, কিন্তু বাংলাদেশের নানাবিধ রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাত আর উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশকে যেতে হয়েছে এই ৩৯টি বছর। যদিও আরেকটি আইন, বিশেষভাবে পরিচিত ‘দালাল আইন’ নামে, এই আইন দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন সংঘঠিত নানাবিধ অপরাধের বিচারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেটিও তৎকালীন সময়ে শত প্রােপাগান্ডার চাপে পড়ে তার গতি ঠিক রাখতে পারেনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর শাসন আমলে সেই বিচারের ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রধান অপরাধকে বাইরে রেখে বাকি অন্য অপরাধের জন্য অপরাধীদের ক্ষমা করে দেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সেই আইনটিই বাতিল করে দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড আর তারপরের বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি, মুক্তিযুদ্ধকালীন নানাবিধ আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের দাবীকে ম্লান-ই করে দিয়েছিল। একই সমাজে অপরাধের শিকার আর অপরাধী বাস করতে শুরু করে এবং বিষ্ময়ের ব্যাপার হচ্ ছে অপরাধীরা। চলে আসে শাসন ক্ষমতায় এবং সমাজের প্রভাব-প্রতিপত্তির অংশীদার হয়ে। ১৯৯২ সালে শহিদ জননী জাহানারা ইমামের গণ আদালতের পর কার্যত সে রকমের কোনাে গণ প্রতিরােধ এই অপরাধীদের ক্ষেত্রে গড়ে উঠেনি অন্তত ২০০৭ সালের আগ পর্যন্ত। ২০০৭ সালের ১/১১ পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করেই একাত্তরের ঘাতকদের বিচারের দাবী ওঠে এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সুশীল সমাজ কথা বলা শুরু করে। আর সে সূত্র ধরেই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারে এই মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধের বিচারের ব্যবস্থা। নেবে বলে কথা দেয়। কাঙ্ক্ষিত বিচার একটা পর্যায়ে শুরু হয় এবং ঠিক তার পর থেকেই এই বিচারকে কেন্দ্র করে স্বরণকালের সবচাইতে বড় মিথ্যাচারগুলােও আমরা দেখতে পাই।। এই মিথ্যাচার যেমন ছিল আইনী বিভিন্ন দিক নিয়ে, আবার অনেকগুলাে ছিল রাজনৈতিক নানাবিধ ঘটনাকে বিকৃত করবার মধ্য দিয়ে। আমার এই গ্রন্থটিতে আমি চেষ্টা করেছি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানাবিধ আইনী ও রাজনৈতিক প্রােপাগান্ডাকে যুক্তির মাইক্রোস্কোপের নীচ দিয়ে দেখা ও সেগুলাের সত্যতা নিয়ে যথাসাধ্য আইনী পর্যালােচনা করা। আমার এই গ্রন্থে ভুল-ভ্রান্তি থাকতে পারে, আমার যুক্তির সাথে অন্যের যুক্তির অমিল থাকতে পারে, দ্বিমত থাকতে পারে সেগুলাে মাথায় রেখেই আমি আমার অবস্থান থেকে একজন আইনজীবী হিসেবে লিখে গেছি। এই গ্রন্থে যে শুধু আইনী আলােচনা বা পর্যবেক্ষণ হয়েছে তা-ই নয়, বরং প্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে ইতিহাস, রাজনীতি ও আইন।। আমি আশা করি গ্রন্থটি পাঠকদের ভালাে লাগবে, এই গ্রন্থের মাধ্যমে একজন পাঠকও যদি উপকৃত হয় তবেই আমার পরিশ্রম স্বার্থক হবে আর এটাই হবে আমার পরম পাওয়া।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ - প্রোপাগান্ডা এবং উত্তর
Writer |
|
Publisher |
|
ISBN |
978-984-95407-6-2 |
Language |
বাংলা |
Country |
Bangladesh |
Format |
হার্ডব্যাক |
First Published |
অমর একুশে বইমেলা ২০২১ |
Pages |
608 |
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ), তার গত ১১ বছরের যাত্রায় নানাবিধ মিথ্যে প্রােপাগান্ডার মধ্যে দিয়ে গেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে সংঘঠিত নানাবিধ আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করবার জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ৩৯ বছর পর এই ট্রাইব্যুনালটি গঠিত হয়। যদিও এই ট্রাইব্যুনালের আইনটি ১৯৭৩ সালে সংবিধানের প্রথম সংশােধনীর মাধ্যমে প্রণীত হয়, কিন্তু বাংলাদেশের নানাবিধ রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাত আর উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশকে যেতে হয়েছে এই ৩৯টি বছর। যদিও আরেকটি আইন, বিশেষভাবে পরিচিত ‘দালাল আইন’ নামে, এই আইন দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন সংঘঠিত নানাবিধ অপরাধের বিচারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেটিও তৎকালীন সময়ে শত প্রােপাগান্ডার চাপে পড়ে তার গতি ঠিক রাখতে পারেনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর শাসন আমলে সেই বিচারের ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রধান অপরাধকে বাইরে রেখে বাকি অন্য অপরাধের জন্য অপরাধীদের ক্ষমা করে দেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সেই আইনটিই বাতিল করে দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড আর তারপরের বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি, মুক্তিযুদ্ধকালীন নানাবিধ আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের দাবীকে ম্লান-ই করে দিয়েছিল। একই সমাজে অপরাধের শিকার আর অপরাধী বাস করতে শুরু করে এবং বিষ্ময়ের ব্যাপার হচ্ ছে অপরাধীরা। চলে আসে শাসন ক্ষমতায় এবং সমাজের প্রভাব-প্রতিপত্তির অংশীদার হয়ে। ১৯৯২ সালে শহিদ জননী জাহানারা ইমামের গণ আদালতের পর কার্যত সে রকমের কোনাে গণ প্রতিরােধ এই অপরাধীদের ক্ষেত্রে গড়ে উঠেনি অন্তত ২০০৭ সালের আগ পর্যন্ত। ২০০৭ সালের ১/১১ পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করেই একাত্তরের ঘাতকদের বিচারের দাবী ওঠে এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সুশীল সমাজ কথা বলা শুরু করে। আর সে সূত্র ধরেই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারে এই মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধের বিচারের ব্যবস্থা। নেবে বলে কথা দেয়। কাঙ্ক্ষিত বিচার একটা পর্যায়ে শুরু হয় এবং ঠিক তার পর থেকেই এই বিচারকে কেন্দ্র করে স্বরণকালের সবচাইতে বড় মিথ্যাচারগুলােও আমরা দেখতে পাই।। এই মিথ্যাচার যেমন ছিল আইনী বিভিন্ন দিক নিয়ে, আবার অনেকগুলাে ছিল রাজনৈতিক নানাবিধ ঘটনাকে বিকৃত করবার মধ্য দিয়ে। আমার এই গ্রন্থটিতে আমি চেষ্টা করেছি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানাবিধ আইনী ও রাজনৈতিক প্রােপাগান্ডাকে যুক্তির মাইক্রোস্কোপের নীচ দিয়ে দেখা ও সেগুলাের সত্যতা নিয়ে যথাসাধ্য আইনী পর্যালােচনা করা। আমার এই গ্রন্থে ভুল-ভ্রান্তি থাকতে পারে, আমার যুক্তির সাথে অন্যের যুক্তির অমিল থাকতে পারে, দ্বিমত থাকতে পারে সেগুলাে মাথায় রেখেই আমি আমার অবস্থান থেকে একজন আইনজীবী হিসেবে লিখে গেছি। এই গ্রন্থে যে শুধু আইনী আলােচনা বা পর্যবেক্ষণ হয়েছে তা-ই নয়, বরং প্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে ইতিহাস, রাজনীতি ও আইন।। আমি আশা করি গ্রন্থটি পাঠকদের ভালাে লাগবে, এই গ্রন্থের মাধ্যমে একজন পাঠকও যদি উপকৃত হয় তবেই আমার পরিশ্রম স্বার্থক হবে আর এটাই হবে আমার পরম পাওয়া।
Writer |
|
Publisher |
|
ISBN |
978-984-95407-6-2 |
Language |
বাংলা |
Country |
Bangladesh |
Format |
হার্ডব্যাক |
First Published |
অমর একুশে বইমেলা ২০২১ |
Pages |
608 |