উর্দু কবিতায় আক্ষেপের পাল্লাটাই ভারী। ‘গজল’ শব্দটির অর্থের দিকেই দেখুন। এর মূল এসেছে আরবি ‘তাগুযুল’ থেকে। তার আবার উৎস মরুভূমির ঊষর বিরাণ প্রান্তরে চরে বেড়ানো মায়াবী চোখের হরিণ, যার আরবি নাম ‘গাযালা’। তাড়া খেয়ে দিগ্বিদিক ছুটে যখন সে কোণঠাসা, যখন সে বুঝতে পারে পালাবার পথ বা আশা নেই-তখন তার বুক চিরে যে আর্তনাদ ছড়িয়ে পড়ে, শব্দগতভাবে তাকেই বলে ‘গজল’।
উর্দু-ফারসি কাব্য ঠিকুজি ঘাঁটলে আরবি ঐতিহ্যে গিয়ে ঠেকে। তাদের থেকে সহজ, প্রাণস্ফূর্ত মরু বাতাসের অস্থিরতাটুকুআপন করে নিল ফারসি কবিতা। কিন্তু বেদুইনদের হাতে অধিকৃত হলেও হাজার চারেক বছরের পুরোনো সভ্যতার গর্বছিল ইরানিদের বুকে। ক্লান্ত, দূর প্রাণাগত কিন্তু ঐতিহ্যগর্বী ফারসি কবিতায় তাই নিজ ভাষার ছিন্ন তারের বেদনা বেজেছে।
সে বেদনার ভাষা তো মধুর হবেই। না পাওয়ার আনন্দ তো সে-ই সাজিয়ে নেয়, যে হারিয়েছে অনেক। উর্দু ভাষার প্রথম কবি আমির খসরুর কবিতায় অপরিণত উর্দুতে ই তাই পরিণত বেদনার প্রকাশ ঘটে। কবি গেছেন দিল্লি থেকে দূরে, ফিরে দেখেন তাঁর পীর ও মুর্শিদ নিজামউদ্দিন আউলিয়া গত হয়েছেন। গালিব বলতেন, ‘আর্তনাদে কোনও সুর থাকে না’।