উনিশ শতকের তিরিশের দশক অস্তগামী। চল্লিশের দশক শুরু হচ্ছে একই সঙ্গে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিল্পকলায় তুমুল বিপ্লব ছুড়ে দেয়া দ্যাগুয়্যারোটাইপ ক্যামেরাকে সঙ্গী করে। তখন ভারতবর্ষের ভাগ্য ইউরোপীয়দের হাতে। শাপে বর, দ্যাগুয়্যারোটাইপ ক্যামেরা প্রযুক্তির পেটেন্ট উন্মুক্ত হওয়ার পরপরই তা চলে আসে ভারতবর্ষে।
দুনিয়ার জন্য প্যাটার্ন উন্মুক্ত হলো ১৮৩৯ সনে, আর কলকাতার ‘থ্যাকার অ্যান্ড পিঙ্ক কোম্পানি’র ক্যামেরা আমদানির বিজ্ঞাপনটি দ্য ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া পত্রিকায় ছাপা হয় ১৮৪০ সনের জানুয়ারিতে। অর্থাৎ ক্যামেরা হাতে পেতে বাঙালির একদমই দেরি হয়নি। দেরিটা হয়েছে ফটোগ্রাফিবিষয়ক বাংলা বই পেতে।
বাংলায় ক্যামেরা আসার প্রায় অর্ধ শতাব্দী পর বের হয় ফটোগ্রাফির প্রথম বাংলা বই। দ্যাগুয়্যারোটাইপ ক্যামেরা আবিষ্কারের দেড় দশকেরও কম সময়ের মধ্যে বিলেতে ফটোগ্রাফির সাময়িক পত্রিকা বের হওয়া শুরু হয়ে যায় (জার্নাল অব দ্য ফটোগ্রাফিক সোসাইটি)। ভারতবর্ষেও তখন ব্রিটিশ-রাজ থাকা সত্তে¡ও মেলেনি বাংলা ফটোগ্রাফিসাহিত্য।