বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রোগ্রামার শাহেদা মুস্তাফিজের জীবনী প্রকাশিত হলো—এটা খুবই আনন্দের একটি ব্যাপার।
১৯৬৪ সালে বাংলাদেশে প্রথম কম্পিউটার আসে। স্বাধীনতার আগে ও পরে হাতে গোনা কিছু প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার ব্যবহার করত। সে সময় নারী তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষও কম্পিউটার সম্পর্কে কিছু জানত না। হাতে গোনা কিছু মানুষ কম্পিউটার সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার ডেভেলপমেন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং বলা নিষ্প্রয়োজন যে এদের সবাই পুরুষ।
এ রকম একটা পরিবেশে ১৯৭৬ সালে শাহেদা মুস্তাফিজ এনসিআর করপোরেশনে সফটওয়্যার আর্কিটেকচার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। একে তো নারী, তার ওপরে তিনি অর্থনীতির মতো একটি বিষয় থেকে পড়াশোনা করে এমন একটি পেশাকে বেছে নিয়েছেন, যা সত্যিই সেই সময়ের তুলনায় অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি ব্যাপার। আজ তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে অনেক সফল নারী আইটি প্রফেশনাল ও আইটি উদ্যোক্তা আছেন। পুরুষদের সঙ্গে রীতিমতো পাল্লা দিয়ে এসব নারী কাজ করছেন। এর পেছনে শাহেদা মুস্তাফিজের অবদান অনস্বীকার্য।
গত শতাব্দীর আশির দশকে একজন কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে আমি আমার ক্যারিয়ার শুরু করি। কাজের সূত্রেই শাহেদা মুস্তাফিজের সঙ্গে পরিচয় হয় আমার। অত্যন্ত সৎ, চৌকস ও কর্মঠ একজন মানুষ। সবার সঙ্গে খুব সুন্দরভাবে মিশে যেতে পারতেন।
বিশ্বজুড়ে এখন সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাথমেটিকসের (Science, Technology, Engineering, Mathematics—STEM) জয়জয়কার। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও এখন স্টেম নিয়ে পড়াশোনা করছেন। কম্পিউটার বিজ্ঞান, কম্পিউটার প্রকৌশল, ডেটা সায়েন্স—এসব বিষয় স্টেমের মধ্যেই পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং স্ট্যাটিস্টিকসের (National Center for Science and Engineering Statistics—NCSES) তথ্য মোতাবেক, ২০১১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দেশটিতে নারী স্টেম কর্মীর সংখ্যা ৯৪ লাখ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ কোটি ২৩ লাখে পৌঁছে গেছে।
এটা সত্যি যে বাংলাদেশে বর্তমানে নারী স্টেম গ্র্যাজুয়েটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কিন্তু তাদের সংখ্যা এখনো অনেক কম। বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি জেন্ডার অ্যাসেসমেন্ট ২০২১-এর তথ্য অনুসারে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের স্টেম প্রফেশনালদের মাত্র ১৪ শতাংশ নারী।
বাংলাদেশের তরুণীরা তরুণদের চেয়ে কোনো অংশেই কম নন। শাহেদা মুস্তাফিজের ওপরে লেখা এই বই আমাদের তরুণীদের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতে উৎসাহিত করবে।