আব্দুল হালিম শরর
বিংশ শতাব্দীর উর্দু গদ্য-লেখকদের মধ্যে আব্দুল হালিম শরর একজন গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখ্যযোগ্য ইলমি ব্যক্তিত্ব। তাকে একজন বিশিষ্ট লেখক, অনুবাদক, ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার হিসাবে স্মরণ করা হয়। শরর লখনৌর সমাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের প্রতীক হিসাবেও পরিচিত। উর্দু ভাষা ও সাহিত্যে তাকে তার কাব্যিক নাটকীয়তার জন্যও স্মরণ করা হয়। আবদুল হালিম শরর উর্দু কবিতা ও সাহিত্যে অনেক নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে হয়তো আলোকিত করেছেন কিংবা নিজের রচনাবলিতে সেগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য ও স্বাতন্ত্র্য দিয়েছেন। তাঁর সাহিত্য-যাত্রার শুরুতে তিনি "তিক্তফল” (১৮৮৯) এবং "শহীদ-ই- ওয়াফা” (১৮৯০) দুটি নাটক রচনা করে পাঠক ও সমালোচকদের আকৃষ্ট করেন। এমন ছন্দবদ্ধ নাটক এর আগে রচিত হয়নি। শরর তার নিজের উপন্যাস "ফতেহ আন্দালুস" এবং "রুমতাহু আল- কাবরা” নিয়ে দুটি ছোট শ্লোক নাটকও লিখেছেন। শরর ছিলেন একজন গুণী লেখক। তিনি সামাজিক ও ঐতিহাসিক উপন্যাস, প্রবন্ধ, জীবনী ও ইতিহাস, নাটক ও কবিতার পাশাপাশি অনুবাদেও তার শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন। তবে ঐতিহাসিক উপন্যাস ও প্রবন্ধের কারণে তিনি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তা অতুলনীয়। আবদুল হালিম শরর ১৮৬০ সালে লখনৌতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম তাফাজ্জল হোসেন এবং তিনি ছিলেন একজন সূফি। শরর লখনৌতে পড়াশোনা করতে আগ্রহী ছিলেন না, তাই তাকে কলকাতার মিটিয়া বুরুজে পাঠানো হয়েছিল। যেখানে তিনি আরবি, ফারসি এবং চিকিৎসাবিদ্যা অধ্যয়ন করেছিলেন। কিন্তু সেখানে তিনি উচ্চপদস্থদের সন্তানদের সাথে বন্ধুত্ব করেছিলেন এবং খারাপ হতে শুরু করেছিলেন, তাই তার পিতা তাকে লখনৌতে ফেরত পাঠান। পরে তিনি দিল্লিতে গিয়ে ইংরেজি অধ্যয়ন করেন এবং ১৮৮০ সালে দিল্লি থেকে তপস্বী হিসেবে ফিরে আসেন। লখনৌতে তিনি মুন্সী নোয়েল কিশোরের "অযোধ আখবার" পত্রিকার সাংবাদিকতায় যোগ দেন। এখানে তিনি অসংখ্য প্রবন্ধ লিখেছেন। আরও কয়েকটি চাকরি এবং বিভিন্ন শহরে থাকার পর তিনি লখনৌতে ফিরে আসেন এবং তার "দিল গদাজ" পত্রিকা প্রকাশ করেন যাতে তার প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস "মালিক-উল-আজিজ ভারজানা" কিস্তিতে প্রকাশিত হয়। এরপর তিনি প্রকাশ করেন "হাসান অ্যাঞ্জেলিনা” ও "মনসুর মোহান্না" যা তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। তবে তার অমর কীর্তি হলো "ফেরদাউসে বারি।” "দিল গাদাজ"-এ শরর প্রথমবারের মতো মুক্ত শ্লোকের উদাহরণও উপস্থাপন করেছিলেন এবং উর্দুভাষীদের ইংরেজি কবিতা ও সাহিত্যের নতুন ধারার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তাছাড়া তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী উর্দুতে অনুবাদ করেছিলেন। প্রায় শতাধিক গ্রন্থের এই বহুমাত্রিক লেখক ১৯২৬ সালের ১ ডিসেম্বর নখনৌতে এন্তেকাল করেন।