৪৮-৭২ ঘন্টায় ক্যাশ অন ডেলিভারি। ০১​৫​৮১১০০০০১​

ফক্সি
ফক্সি
0.00 ৳
0.00 ৳
পথের দাবি
পথের দাবি
0.00 ৳
0.00 ৳
Up Coming

আরণ্যক

https://gronthik.com/web/image/product.template/457/image_1920?unique=ad5b02b

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের "আরণ্যক" একটি শক্তিশালী গল্প যা মানুষের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক এবং জীবনের গভীরতা নিয়ে আলোচনা করে। এটি মূলত একটি অভিযানমূলক উপন্যাস, যেখানে দুইটি প্রধান চরিত্রের মাধ্যমে পরিবেশ, প্রকৃতি এবং সভ্যতার মধ্যে সংঘাত এবং সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। উপন্যাসটির পটভূমি পশ্চিমবঙ্গের মাইমাংশী পাহাড়ী অঞ্চলের অরণ্য এবং সেই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।

এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলেন নৃপতী, যিনি একজন প্রগতিশীল যুবক। সে একটি অরণ্য অঞ্চলে মনের খোঁজে ঘুরতে আসে এবং সেখানে তাকে আবিষ্কার করতে হয় প্রকৃতির নতুন দিক। তার সামনে আসে নানা ধরনের প্রতিকূলতা, যেখানে সে অরণ্যের প্রকৃত জীবন ও তার সঙ্গে সম্পর্কিত মানুষদের সম্পর্কে জানতে পারে। এই অঞ্চলের মানুষদের জীবনযাত্রা এবং তাদের সঙ্গে নৃপতীর সম্পর্কই উপন্যাসটির কেন্দ্রবিন্দু।

"আরণ্যক"-এর গল্প শুধুমাত্র নৃপতীর অভিযাত্রার বিবরণ নয়, এটি মূলত প্রকৃতির প্রতি মানুষের গভীরতম অনুভূতি এবং সম্পর্কের একটি চিত্র। নৃপতী যখন অরণ্য অঞ্চলে প্রবেশ করে, তখন সে প্রকৃতির এক নতুন রূপ আবিষ্কার করে, যেখানে সভ্যতা এবং কুসংস্কারের সাথে সংঘাত ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে একটি নতুন জীবনযাত্রার প্রতিফলন দেখা যায়।

উপন্যাসটির থিমের মধ্যে উঠে আসে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের একাত্মতা, সভ্যতা এবং অসভ্যতার পার্থক্য, পাশাপাশি মানবিক সম্পর্কের জটিলতা। এখানকার পরিবেশ বর্ণনা অত্যন্ত জীবন্ত এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যপট উপন্যাসের আবেগময়তাকে আরও গভীর করেছে। গল্পের মাধ্যমে লেখক পাঠককে এমন এক অরণ্যে প্রবেশ করান যেখানে সভ্যতার ঊর্ধ্বে গিয়ে প্রকৃতির অন্তর্নিহিত সত্যের সন্ধান পাওয়া যায়।

"আরণ্যক" কেবল একটি অভিযাত্রার গল্প নয়, এটি মানবপ্রকৃতির এক গভীর বিশ্লেষণ, যেখানে মানুষের আত্ম-অন্বেষণ, প্রকৃতির প্রতি তার অনুভূতি এবং একটি পৃথক জীবনযাত্রার বিষয়টি উঠে আসে। উপন্যাসটির ভেতর দিয়ে পাঠক বুঝতে পারে, সভ্যতার সীমাবদ্ধতার বাইরে প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক কতটা জরুরি এবং কীভাবে মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে জীবনের সার্থকতা খুঁজে পেতে পারে।

উপন্যাসটি আধুনিক বাঙালি সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত, যা মানবমনের অন্ধকার এবং প্রকৃতির রূপরেখার দিকে আলোকপাত করে। "আরণ্যক" এর মাধ্যমে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের প্রকৃতির প্রতি এক অমলিন প্রেম এবং আত্ম-অন্বেষণের এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৪-১৯৫০) বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা কথাশিল্পী হিসেবে পরিচিত। তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার গোপালনগরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব কাটে গ্রামীণ পরিবেশে, যা তাঁর রচনায় গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে। প্রকৃতির প্রতি তাঁর গভীর মুগ্ধতা এবং গ্রামীণ জীবনের সরলতা ও কঠিন সংগ্রামের বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্যকর্মের কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে ওঠে। বিভূতিভূষণ কলকাতার রিপন কলেজ (বর্তমান সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং শিক্ষকতা ও অন্যান্য পেশায় নিযুক্ত হন। তবে সাহিত্যচর্চা ছিল তাঁর আসল নেশা এবং জীবনের প্রধান ধারা। বিভূতিভূষণের সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা হলো "পথের পাঁচালী" এবং এর পরবর্তী অংশ "অপরাজিত", যা বাংলার গ্রামীণ জীবনের এক মহাকাব্যিক রূপ দিয়েছে। তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রকৃতি ও মানুষের অন্তর্লীন সম্পর্ক, জীবনসংগ্রাম, এবং মানবিক বোধ গভীরভাবে ফুটে ওঠে। "আরণ্যক", "ইছামতী", এবং "দেবযান" তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম। সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রে রূপায়িত "পথের পাঁচালী" ও "অপরাজিত" তাঁর সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। বিভূতিভূষণের লেখার সহজ-সরল ভাষা, গভীর দার্শনিকতা, এবং জীবনের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক হিসেবে অমর করে তুলেছে।

Writer

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

Publisher

গ্রন্থিক প্রকাশন

Language

বাংলা

Country

Bangladesh

Format

হার্ডব্যাক

Edition

1st

First Published

অমর একুশে বইমেলা ২০২৫

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের "আরণ্যক" একটি শক্তিশালী গল্প যা মানুষের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক এবং জীবনের গভীরতা নিয়ে আলোচনা করে। এটি মূলত একটি অভিযানমূলক উপন্যাস, যেখানে দুইটি প্রধান চরিত্রের মাধ্যমে পরিবেশ, প্রকৃতি এবং সভ্যতার মধ্যে সংঘাত এবং সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। উপন্যাসটির পটভূমি পশ্চিমবঙ্গের মাইমাংশী পাহাড়ী অঞ্চলের অরণ্য এবং সেই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।

এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলেন নৃপতী, যিনি একজন প্রগতিশীল যুবক। সে একটি অরণ্য অঞ্চলে মনের খোঁজে ঘুরতে আসে এবং সেখানে তাকে আবিষ্কার করতে হয় প্রকৃতির নতুন দিক। তার সামনে আসে নানা ধরনের প্রতিকূলতা, যেখানে সে অরণ্যের প্রকৃত জীবন ও তার সঙ্গে সম্পর্কিত মানুষদের সম্পর্কে জানতে পারে। এই অঞ্চলের মানুষদের জীবনযাত্রা এবং তাদের সঙ্গে নৃপতীর সম্পর্কই উপন্যাসটির কেন্দ্রবিন্দু।

"আরণ্যক"-এর গল্প শুধুমাত্র নৃপতীর অভিযাত্রার বিবরণ নয়, এটি মূলত প্রকৃতির প্রতি মানুষের গভীরতম অনুভূতি এবং সম্পর্কের একটি চিত্র। নৃপতী যখন অরণ্য অঞ্চলে প্রবেশ করে, তখন সে প্রকৃতির এক নতুন রূপ আবিষ্কার করে, যেখানে সভ্যতা এবং কুসংস্কারের সাথে সংঘাত ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে একটি নতুন জীবনযাত্রার প্রতিফলন দেখা যায়।

উপন্যাসটির থিমের মধ্যে উঠে আসে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের একাত্মতা, সভ্যতা এবং অসভ্যতার পার্থক্য, পাশাপাশি মানবিক সম্পর্কের জটিলতা। এখানকার পরিবেশ বর্ণনা অত্যন্ত জীবন্ত এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যপট উপন্যাসের আবেগময়তাকে আরও গভীর করেছে। গল্পের মাধ্যমে লেখক পাঠককে এমন এক অরণ্যে প্রবেশ করান যেখানে সভ্যতার ঊর্ধ্বে গিয়ে প্রকৃতির অন্তর্নিহিত সত্যের সন্ধান পাওয়া যায়।

"আরণ্যক" কেবল একটি অভিযাত্রার গল্প নয়, এটি মানবপ্রকৃতির এক গভীর বিশ্লেষণ, যেখানে মানুষের আত্ম-অন্বেষণ, প্রকৃতির প্রতি তার অনুভূতি এবং একটি পৃথক জীবনযাত্রার বিষয়টি উঠে আসে। উপন্যাসটির ভেতর দিয়ে পাঠক বুঝতে পারে, সভ্যতার সীমাবদ্ধতার বাইরে প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক কতটা জরুরি এবং কীভাবে মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে জীবনের সার্থকতা খুঁজে পেতে পারে।

উপন্যাসটি আধুনিক বাঙালি সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত, যা মানবমনের অন্ধকার এবং প্রকৃতির রূপরেখার দিকে আলোকপাত করে। "আরণ্যক" এর মাধ্যমে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের প্রকৃতির প্রতি এক অমলিন প্রেম এবং আত্ম-অন্বেষণের এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন।

Writer

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

Publisher

গ্রন্থিক প্রকাশন

Language

বাংলা

Country

Bangladesh

Format

হার্ডব্যাক

Edition

1st

First Published

অমর একুশে বইমেলা ২০২৫

একই বিষয়ের অন্যান্য বই
রিসেন্ট ভিউ বই
Your Dynamic Snippet will be displayed here... This message is displayed because you did not provided both a filter and a template to use.
WhatsApp Icon