শেষের কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক অসাধারণ রোমান্টিক উপন্যাস, যেখানে প্রেম, ত্যাগ, এবং আত্মোপলব্ধির জটিল রূপ ফুটে উঠেছে। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে দুই চরিত্র, অমিত রায় এবং লাবণ্য।
অমিত রায় একজন ধনী ও স্বাধীনচেতা যুবক। তিনি ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগী, এবং আধুনিক জীবনের প্রতিফলন তাঁর চিন্তা-চেতনায় প্রকাশ পায়। পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় লাবণ্যর, যিনি একজন স্নাতক ছাত্রী। লাবণ্যর জীবন সহজ-সরল, এবং তিনি বাঙালিত্বের ঐতিহ্যে বিশ্বাসী। অমিত ও লাবণ্যর মধ্যে ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
তবে তাঁদের প্রেম একধরনের আদর্শ প্রেম—যেখানে ভোগ বা দখলের কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। অমিত ও লাবণ্য বুঝতে পারেন, বাস্তব জীবনে তাঁদের একসঙ্গে থাকা সম্ভব নয়, কারণ তাঁদের জীবনদর্শন ও মূল্যবোধ ভিন্ন। অমিতের জীবনে কেটরিন নামের এক ইংরেজ মহিলা এবং লাবণ্যর জীবনে শোভনলাল নামের আরেকজন পুরুষের উপস্থিতি তাঁদের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে।
শেষে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, প্রেমকে স্বর্গীয় ও নিঃস্বার্থ রেখে নিজেদের আলাদা পথে চলবেন। এই সিদ্ধান্ত একদিকে কষ্টকর হলেও তাঁদের আত্মিক সম্পর্ককে পূর্ণতা দেয়।
শেষের কবিতায় প্রেমের গভীরতা এবং মানবিক সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছেন, সত্যিকারের প্রেম কখনোই দখলের জন্য নয়, বরং ত্যাগ এবং পরস্পরের উন্নতিকে স্বীকার করার মধ্যে তা বিরাজ করে।