বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের "পথের পাঁচালি" বাংলা সাহিত্যের একটি অমর সৃষ্টি। এটি একজন গ্রাম্য বাঙালি পরিবারের জীবনযাত্রা ও তাদের সংগ্রামের গল্প বলে। উপন্যাসটি মূলত এক ছোট গ্রামের জীবনকথা, যেখানে মূল চরিত্র হলেন অপু এবং তার ছোটবোন দুদি। এই গ্রাম্য পরিবেশ, প্রকৃতি এবং মানুষের সম্পর্কের মাধ্যমে লেখক সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ-দুঃখ এবং তাদের জীবনের অমূল্য মুহূর্তগুলি বর্ণনা করেছেন।
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অপু এবং তার পরিবার, যার মধ্যে তার মা শার্বাণী, বাবা হরিharan এবং তার ছোট বোন দুদি। অপু ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠে, পরিবারের নানা সংগ্রাম ও দুঃখের মধ্যে দিয়ে। তার মা শার্বাণী একজন ত্যাগী ও স্নেহশীল মা, যিনি পরিবারকে যত্নসহকারে পরিচালনা করেন। তার বাবা হরিহর, একজন শিক্ষক, যিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী, তবে সংসারের টানাপোড়েনের কারণে সব সময়ই সংগ্রামের মধ্যে থাকেন।
উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দু হল অপুর শৈশব, তার জীবনের সুখ-দুঃখ এবং তার পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা। অপু এবং তার বোন দুদি, দুটি ছোট চরিত্র যারা তাদের জীবনের অভ্যন্তরীণ দুঃখ এবং আনন্দের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে চেষ্টা করে। দুদি মৃত্যুর পর অপু এবং তার মায়ের জীবনে এক নতুন শোকের কাল শুরু হয়।
"পথের পাঁচালি" একটি গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবন ও সংগ্রামের গল্প, যেখানে লেখক মানবিক সম্পর্কের গভীরতা, দারিদ্র্যের যন্ত্রণা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং শিশুদের আনন্দকে অত্যন্ত নিপুণভাবে বর্ণনা করেছেন। লেখক অপু ও তার পরিবারের শৈশবের মধুর মুহূর্তগুলি এবং তাদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন।
এই উপন্যাসটি বাঙালি জীবনের সরলতা, ত্যাগ ও সংগ্রামের এক সুন্দর ছবি, যা মানব জীবনের অস্থিরতার মধ্যেও একটি সুখী ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাত্রার স্বপ্ন দেখায়। "পথের পাঁচালি" একটি কাল্পনিক নয়, বরং বাস্তবের প্রতিচ্ছবি, যেখানে জীবন চলতে থাকে, সুখ-দুঃখ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগাভাগি হয়ে থাকে।