'মুঘল হারিম’ একটি মৌলিক গবেষণামূলক গ্রন্থ। গ্রন্থটির প্রণেতা ড. নুসরাত ফাতেমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক।
গ্রন্থে সংকলিত প্রবন্ধগুলো স্বীকৃতমানের বিভিন্ন পত্রিকায় পূর্বে প্রকাশিত হয়েছে। মুঘল হারিমের নারীদের শিক্ষা-সাহিত্য, রূপচর্চা, অলংকার, সংস্কৃতি, অর্থনীতিতে অবদান, বিনোদন ও উৎসব-অনুষ্ঠান-বিষয়ক প্রবন্ধসমূহ নিয়ে এ গ্রন্থটি রচিত হয়েছে। বিষয়গুলো সাতটি অধ্যায়ে বিন্যাসিত হয়ে বর্তমান গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। ‘মুঘল হারিম’ শব্দটি গ্রন্থের শিরোনামে ব্যবহার করে গবেষক ‘হারেম’ শব্দের বহুল ব্যবহারের গতানুগতিকতাকে পরিহার করেছেন। ‘মুঘল ইতিহাসে নারী’ তাঁর রচনার মূল উপজীব্য বিষয়। বর্তমান গ্রন্থে মুঘল সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্ম, রাজনীতি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে মূল সূতিকাগার মুঘল হারিম সম্পর্কিত যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয় প্রাথমিক ও দ্বৈতয়িক উৎসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের আলোকে তাঁর প্রবন্ধসমূহের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। মুঘল হারিম সম্পর্কিত নতুন ধারণার অবতারণা গ্রন্থটির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
নুসরাত ফাতেমা একজন মৌলিক গবেষক। মধ্যযুগীয় ভারতে মুঘল হারিমে অবস্থানকারী নারীরা পর্দার অন্তরালে থেকেও তৎকালীন সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে যে উন্নয়ন ও প্রগতি সঞ্চারে সক্ষম হয়েছিলেন এবং এসব ক্ষেত্রে যে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিলেন প্রবন্ধকারের রচিত প্রবন্ধসমূহের মাধ্যমে তা সুস্পষ্টরূপে ফুটে উঠেছে। ‘সমাজে নারীর অবস্থান সভ্যতার পরিমাপক’— এই বক্তব্যের সত্যতা তিনি নিরূপণ করেছেন মুঘল হারিমের নারীদের ভিন্নমুখী অবদানের আলোচনার মধ্য দিয়ে। তার আলোচনা তথ্যসমৃদ্ধ ও বিশ্লেষণধর্মী।
এই গ্রন্থটি ইতিহাস গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অনুরাগী পাঠকদের মুঘল হারিম সম্পর্কিত নানা কৌতূহল ও জিজ্ঞাসা এবং অনুসন্ধিৎসার যথার্থ উত্তর দিতে সক্ষম হবে বলে আশাকরি। ‘মুঘল হারিম’ গ্রন্থটি ব্যাপকহারে পাঠকদের কাছে সমাদৃত ও মূল্যায়িত হোক। গ্রন্থকারের প্রতি শুভকামনা।