দুটি কারণে বিপ্লবী নবী আলাদা। প্রথমত, এই গ্রন্থে রব্বানি দর্শন-যা স্বভাবতই মহান ও স্বয়ংসম্পূর্ণ তাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়সমূহ-যা একমাত্র আধ্যাত্মিক উপলব্ধি ও কাশফের (স্বজ্ঞার) মাধ্যমে ব্যক্ত করা সম্ভব, তা ব্যক্ত করতে গিয়ে হযরত মুহাম্মদ ( স.)-এর রুহের মাধ্যমে আমার যে রুহানি উপলব্ধি ও কাশফ হয়েছে, আমি হুবহু তা প্রয়োগ করেছি।
বিপ্লবী নবী সিরাতবিষয়ক বইগুলির মধ্যে সামগ্রিকভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে দাবি না করা গেলেও অপরাপর গ্রন্থের তুলনায় এর বৈশিষ্ট্য অবশ্যই ব্যতিক্রম। কী সেই বৈশিষ্ট্য? বিভিন্ন সিরাতগ্রন্থের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য -যা হজরত মুহাম্মদ ( স.)-এর জীবনচরি তকে জীবন্ত ও গতিশীল করে তুলতে সক্ষম এবং ভাবাবেগ মুক্ত, নিরপেক্ষ, তুলনাহীন ও জীবনের সামগ্রিক দিক তুলে ধরতে সমর্থ, বিপ্লবী নবী-তে তার সব কয়টাই আছে। এসব ছাড়াও, হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবনীর যে সব গুরুত্বপূর্ণ রুকন আজ পর্যন্ত অস্পষ্ট ও অপ্রমাণিত রয়েছে বিপ্লবী নবী সে ইসব গুরুত্বপূর্ণ দিকও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছে ।
মুহাম্মদ (স.) কোনো পুরাণের চরিত্র নন। বরং অন্যান্য ধর্মের তুলনায় আধুনিক, ঐতিহাসিক এবং ইতিহাসাশ্রিত ধর্ম। ফলে ইতিহাস, ইহলৌকিকতা এবং রাজনীতি থেকে আলাদা করে বিচ্ছিন্নভাবে ইসলামকে নিছকই পরকালীন বিষয় হিশাবে পাঠ ও চর্চা ইসলামকে ইহলোক-বিবর্জিত ও পরকাল-সর্বস্ব ধর্মে পর্যবসিত হবার বিপদে ফেলে দিয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিপ্লবী নবী বইটি আপনাকে অনুপ্রাণিত করতে পারে।