এই বহির প্রথম ইন্টারভিউটা দুই হাজার চোদ্দতে, আর শেষ ইন্টারভিউটা দুই হাজার চব্বিশের ডিসেম্বরে, আফটার ফ্যাসিস্ট সময়ে। মানে, শাহবাগের আজান থেকে চব্বিশের অভ্যুত্থান, ফ্যাসিস্ট ও আফটার ফ্যাসিস্ট, পুরো সময়ের এই আলাপ।
বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টের পতন হয়েছে এখন। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে যে আলাপগুলো করতাম, তার বড় অংশরে ফ্যাসিবাদের স্মৃতিকথা বলতাম। দেখা যাচ্ছে, আফটার ফ্যাসিস্ট সময়েও এই স্মৃতিকথাই লিখতে হইতেছে আমাদেরকে। কারণ, ফ্যাসিস্টের পতন মানেই ফ্যাসিবাদের পতন না। এইটা একটা আইডিওলজি, সচেতন চয়েস আর লাইফস্টাইল, যার থেকে স্রেফ একটা রেজিম বা ক্ষমতাকাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে বেরুনো সম্ভব না।
ফ্যাসিবাদ মানুষকে লঘু করে। এখানে মানুষ জাতীয়তাবাদ আর অহমের টুল মাত্র হয়ে রয়, যার কোন কনসেন্ট হাজির থাকে না। বা থাকারে অসম্ভব কইরা তোলে। ফলে, ফ্যাসিবাদে মানুষের রুহ থাকে না। আমরা বহু বছর ধইরা এই লঘুতার ভেতরে বসবাস করেছি। সাহিত্য শিল্প ও রাজনীতিতে এই লঘুতারে উদযাপন করেছি, রুহহীন হয়ে।
এই রুহহীন অবস্থা গণহতাশার দর্শন প্রমোট করে। ফলে, ফ্যাসিবাদের দিনগুলোতে তরুণদের হতাশা, ডিপ্রেশন ও আত্মহত্যা বেড়েছিল। ফ্যাসিবাদের ভেতরের কনসেন্টহীনতা ও স্থবিরতার সাথে এই আত্মহত্যাগুলোর সম্পর্ক ছিল। আমরা শেখ হাসিনার অধীনে একটা চিরস্থায়ী জরুরি অবস্থার ভেতরে আটকে পড়েছিলাম। তাই, এই আত্মহত্যাগুলোকেও আমরা হত্যা বলতাম এবং এই খুনের গুহা থেকে বেরুনোর কথা বলতাম।
এই অবস্থা অতিক্রমের জন্য তরুণদের সমন্বিত ওঙ্কার ও জন-অভ্যুত্থানের জরুরতের কথা বলতাম।
মেমোরিজ অব ফ্যাসিজম হল, আমাদের সেই অতিক্রমের আলাপ।
শাহবাগের আজান থেকে চব্বিশের অভ্যুত্থানের পরের যে বাংলাদেশে ঢুকলাম আমরা, এই নতুন বাংলাদেশে সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও রাজনীতিতে যে নতুন পরিবর্তন চাইছি আমরা, এবং একটা নতুন সুগন্ধি বাগানে ঢুকে পড়তে চাইছি এখন, তা কেমন?
আসুন, পড়ি।