এই পুস্তকে অনূদিত সৈয়দ মুমতাজ আলীর দীর্ঘ প্রবন্ধটিকে বোঝার জন্য খুব সংক্ষেপে ভারতবর্ষের ইতিহাসের একটি সুনির্দিষ্ট কালপর্বের দিকে একটু নজর বুলিয়ে নেওয়া দরকার। হয়তো খুব গভীর আলোচনার দরকার হবে না, কেবল সেই সময়টিকে বোঝার জন্য এই বইয়ে অনূদিত তাঁর প্রবন্ধটির প্রেক্ষিতায়ন করার জন্য সেই সময়ের ইতিহাসটিকে একটু জানা দরকার। নইলে এই লেখাটি হয়তো খুবই আপতিক, হঠাৎ করে কেবলই একজন বিশেষ ব্যক্তির লেখা ব্যক্তিগত মতামত মনে হতে পারে, এমন কি লেখাটি অতি প্রত্যাশার ভারেও আক্রান্ত হতে পারে। অর্থাৎ এই অনূদিত প্রবন্ধটির লেখক সৈয়দ মুমতাজ আলীর সময়টিকে বোঝা দরকার। শুধু তাই-ই নয়, সৈয়দ মুমতাজ আলীর যারা উত্তরসূরি, সেই দেওবন্দ ঘরানার ইসলামী আলেমগণ আজ আরও বহুগুণ শক্তিমান হিসাবে হাজির হয়েছেন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্থান, মালেয়শিয়া, ভারত এবং ইন্দোনেশিয়াসহ আরও বেশ কিছু মুসলিম প্রধান দেশে । এই বহুগুণ বেশি রাজনৈতিক শক্তি অর্জন করে সেই একই ইসলামী ধারা আজ বাংলাদেশে কী ভূমিকা পালন করছেন, অন্তত নারী প্রশ্নে তাদের অবস্থান কি সেটাও মিলিয়ে নিতে সুবিধা হবে এবং একটি তুলনামূলক ধারণা পাওয়ারও সুযোগ তৈরি হবে। সুতরাং-সৈয়দ মুমতাজ আলীর এই অনুবাদ প্রবন্ধটিকে মাঝখানে রেখে আমরা বোঝার চেষ্টা করবো, ঐতিহাসিকভাবে ভারতবর্ষের মুসলিম সমাজে নারী প্রশ্নে দেওবন্দ আন্দোলনের ভূমিকা। এবং একই সাথে আজকের দেওবন্দ ঘরানার যে শিক্ষা ও রাজনৈতিক ধারা, নারী প্রশ্নে তাদের বর্তমান অবস্থানকেও। বোঝার চেষ্টা করবো-দেওবন্দ ঘরানার ইসলামী আলেমদের মাঝে নারীর অধিকার প্রসঙ্গে সেকালের এবং আজকের বোঝাপড়াকেও।
এই বইটির উপশিরোনাম হচ্ছে ‘ভারতবর্ষের ইসলামী নারীবাদী রচনা’। অর্থাৎ এই অনূদিত প্রবন্ধটি ভারতবর্ষের ইসলামী নারীবাদী রচনাসমূহের একটি প্রাথমিক নিদর্শন।