৪৮-৭২ ঘন্টায় ক্যাশ অন ডেলিভারি। ০১​৫​৮১১০০০০১​

কথাশিল্পী শহীদুল জহির : বিষয়-বিশ্লেষণ ও জাদুবাস্তবতা
কথাশিল্পী শহীদুল জহির : বিষয়-বিশ্লেষণ ও জাদুবাস্তবতা
375.00 ৳
500.00 ৳ (25% OFF)
পুখে 'র বয়ানে আত্মহত্যা
পুখে 'র বয়ানে আত্মহত্যা
202.50 ৳
270.00 ৳ (25% OFF)
2025 Book Fair

ইহুদি প্রশ্ন প্রসঙ্গে

https://gronthik.com/web/image/product.template/461/image_1920?unique=11b9b3f

240.00 ৳ 240.0 BDT 320.00 ৳

320.00 ৳

Not Available For Sale


This combination does not exist.

Out of Stock

উনিশ শতকের জার্মান বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতির ধারায় ইওরোপ তথা সমস্ত পৃথিবীর আজকে পর্যন্ত অমিমাংসিত একটা প্রশ্ন আবারও সামনে চলে আসে- ইহুদি প্রশ্ন! পৃথিবীর দেশে দেশে ইহুদিদের সাথে খৃষ্টানদের ধর্মীয় বৈরিতার তো একটা খুব ধর্মতাত্ত্বিক রুপ আমরা দেখি, এর চাইতেও বড় বিপদজনক বৈরিতা ছিলো মুলত অর্থনৈতিক। সমস্ত ইওরোপের সুদের কারবার সহ বেশিরভাগ ব্যবসাবানিজ্য একেবারে আষ্টেপৃষ্ঠে ইহুদিদের নিয়ন্ত্রণে ছিলো, ফলে ইওরোপজুড়ে মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ইহুদিবাদের ওপর নির্ভরশীল ছিলো, অথচ সামাজিকভাবে ইহুদিরা সবচাইতে নিপীড়িত জাতি হিসাবে হাজার বছর ধরে ইওরোপসহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে টিকে ছিলেন। এইযে সামাজিকভাবে নিগৃহীত অথচ অর্থনৈতিক ক্ষমতায় সমস্ত ইওরোপের ভাগ্যবিধাতা বনে যাওয়া- সামাজিক আর অর্থনৈতিক অবস্থার এমন বৈপরিত্যের মধ্যে বাস করা ইহুদিরা মুলত একটা সামাজিক তোপের মুখে ছিলেন, সেই তোপ জনপরিসরে এসে ধর্মীয় বিরোধে রুপ নেয়।

 

যেহেতু আপাতদৃষ্টে বিষয়টাকে ধর্মতাত্ত্বিক বিরোধ মনে হয়, সেহেতু ব্রুনো বাউয়ের এসে দুই প্রস্থ প্রস্তাব হাজির করান- প্রথমত ইহুদি খৃষ্টান নির্বিশেষে সমস্ত মানবজাতিকে তাদের ধর্ম ছেড়ে দিতে হবে, এবং রাষ্ট্র কোনও বিশেষ ধর্মের পক্ষপাত করবেনা। বাউয়েরের হিসাবে, রাষ্ট্র হিসাবে রাষ্ট্র তার ধর্ম ছেড়ে দিলেই পৃথিবীর সমস্ত মানুষের ধর্ম নাই হয়ে যাবে,সেক্ষেত্রে অবশ্য মানুষের থেকেও সহযোগীতা চান বাউয়ের- মানুষও যেন নির্বিবাদে তাদের ধর্মটা ছেড়ে দেয়-   আর মানুষ তাদের ধর্ম ছেড়ে দিলেই আর ইহুদি খৃষ্টান বিরোধ তো থাকবেই না, সারা বিশ্বেই সার্বজনীনভাবে মানুষের রাজনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত হবে। এইদিক থেকে ইহুদি প্রশ্নের একটা সার্বজনীন মাহাত্ম্য আছে।

 

এই যুক্তি প্রাথমিকভাবে অত্যন্ত চমকপ্রদ মনে হলেও ছাব্বিশ বছর বয়সী কার্ল মার্কস অত্যন্ত তীক্ষ্মতার সাথে ধরে ফেলেন- ব্রুনো বাউয়েরের এই ঘাঁড়ত্যাড়া যুক্তিবাদ আসলে অত্যন্ত দুর্বল যুক্তির পসরা মাত্র। মার্কস দেখান- রাষ্ট্র তার ধর্ম ছেড়ে দিতেই পারে, ইনফ্যাক্ট সত্যিকারের রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে ওঠার প্রধান শর্তই হলো রাষ্ট্রের দিক থেকে সকল প্রকার ধর্মীয় আনুগত্য ছেড়ে দিতে হবে, কিন্তু সেইটা করার সাথে মোটেও ধর্মের বিলুপ্ত হবার কোনও সম্ভাবনা নাই। বরং উত্তর আমেরিকার উদাহরণ দেখান মার্কস- তিনি দেখান- প্রকৃত গণতন্ত্রী রাষ্ট্রগুলিতে ধর্ম যে কেবল টিকেই আছে তা না- বরং আগের চাইতে তীব্রভাবে এবং যথাযথ বৈচিত্র্য সহই ধর্মগুলি টিকে আছে। ফলে রাষ্ট্র ধর্মীয় আনুগত্য ছেড়ে দিলেই দুনিয়া থেকে ধর্ম চলে যাবে- এমন যুক্তি ভিত্তিহীন।

 

মার্কস তার চাইতেও বড় যেই প্রশ্নটা হাজির করেন, রাষ্ট্র নিজে ধর্ম ছেড়ে দিবে, দিতে বাধ্য, না হলে সে রাষ্ট্র হয়ে উঠতে পারবেনা, সেকারণে আমরা রাষ্ট্রকে ধর্ম ছেড়ে দিতে বলতেই পারি, কিন্তু নাগরিক মানুষকে কি আমরা তাদের ধর্ম ছেড়ে দেয়ার দাবী করতে পারি?

 

রাজনৈতিক মুক্তি পেতে গেলে ধর্ম ছেড়ে দিতে হবে, এমন দাবীর বিপরীতে মার্কস রাজনৈতিক মুক্তির খতিয়ান ঘাটেন, ঘেটে দেখান- যে রাজনৈতিক মুক্তির সনদেই বরং মানুষের মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বাধীনভাবে ধর্মপালনের অধিকারের কথা বলা আছে। উত্তর আমেরিকার প্রায় প্রত্যেক রাজ্যের সংবিধান ঘেটে ঘেটে মার্কস এই যুক্তি দেখান, যে যেই রাজনৈতিক মুক্তি মানুষ তার রক্ত দিয়া অর্জন করছে, সেই মুক্তির সনদেই সবার আগে তার নাগরিক স্বাধীনতা তথা নাগরিক মুক্তির যেই পরামিতি নির্ধারণ করা হইছে, সেইখানে মানুষের স্বাধীনভাবে ধর্মপালনের অধিকারে কারও হস্তক্ষেপ করার অধিকারই দেওয়া হয়নাই। ফলে “রাজনৈতিক মুক্তি পেতে চাইলে ধর্ম ছেড়ে দাও” টাইপের দাবী হলো সেই দাবী, যেখানে কোনও উজবুক এসে আপনাকে উপদেশ দিচ্ছেন- তুমি পানি খেতে চাইলে পানি খাওয়া ছেড়ে দাও!

 

অর্থাৎ হেগেলের সবচাইতে ব্রিলিয়ান্ট শিষ্যটি, আমাদের প্রিয় ব্রুনো বাউয়ের এইখানে এসে যুক্তিবাদীতার তালগোল পাকিয়ে ফেলছেন।

কেন বাউয়ের যুক্তির তালগোল পাকাচ্ছেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুজতে এসে  মার্কস রাজনৈতিক মুক্তি আর মানবমুক্তির ধারণা দুইটাকে সামনে নিয়ে আসেন। মার্কস দেখান, রাজনৈতিক মুক্তি আর মানবিক মুক্তি এক জিনিস না। মানবিক মুক্তির অর্থ পৃথিবীর সকল প্রকার শেকল থেকে মানুষকে মুক্ত করা, আর রাজনৈতিক মুক্তির অর্থ মানুষের বিরাজমান বাস্তবতায় মানুষের সকল প্রকার সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষমতা রাজনীতির হাতে তথা রাষ্ট্রের হাতে ন্যাস্ত করা। এইযে রাজনৈতিক মুক্তি, এর জন্যে মানবিক মুক্তি তথা মানুষের সকল শেকল থেকে মানুষের মুক্তি অর্জন করা আবশ্যক না, মানুষকে নানান শেকলে আবদ্ধ রেখেই তার রাজনৈতিক মুক্তি অর্জন করা যায় এবং তাইই করা হয়েছে। অর্থাৎ মানুষের ভাগ্য কেবলই নির্ধারণ করবে রাষ্ট্র তথা রাজনীতি- রাজনৈতিক মুক্তি মুলত এইটুকুই।

 

অর্থাৎ রাজনৈতিক মুক্তির যেই শর্ত, সেখানে মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকবে, মানুষের শ্রেণীগত বিভাজন থাকবে, মানুষের দক্ষতার বিভাজন থাকবে। এবং এইগুলি থাকবে বলেই মানুষ একলা হয়ে বাঁচবে, সেই একলা হয়ে থাকা মানুষের এই একলা জীবন যেন টিকে থাকে, তার উদ্দেশ্যেই রাষ্ট্র তথা রাজনীতি থাকবে।

কার্ল মার্কস

কার্ল মার্ক্স ১৮১৮ সালের ৫ মে জার্মানির ট্রিয়ার শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা হাইনরিখ মার্ক্স ছিলেন একজন আইনজীবী এবং মাতা হেনরিয়েটা প্রেসবার্গ। ইহুদি পরিবারে জন্ম নেওয়া মার্ক্সের বাবা পরে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। শৈশবে মার্ক্স ছিলেন কৌতূহলী এবং মেধাবী, যা তাকে পরবর্তী জীবনে গভীর চিন্তক এবং দার্শনিক হতে অনুপ্রাণিত করে। কিশোর বয়সে মার্ক্স সাহিত্য এবং দর্শনে গভীর আগ্রহ দেখান। ১৮৩৫ সালে তিনি বন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অধ্যয়ন শুরু করেন, তবে পরবর্তীতে বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হন। সেখানে তিনি দর্শন এবং ইতিহাসে মনোনিবেশ করেন। তার প্রিয় শিক্ষক হেগেলের দর্শনের প্রতি তার দার্শনিক ভিত্তি গড়ে তোলে। ছাত্রজীবনেই তিনি রাজনীতি এবং সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। মার্ক্সের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৮৪৩ সালে, যখন তিনি রাইনিশ জেইতুং নামে একটি পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখানে পুঁজিবাদ এবং সামাজিক অবিচার নিয়ে লেখার জন্য সরকার তাকে নির্বাসনে পাঠায়। এরপর তিনি প্যারিসে যান, যেখানে তার সঙ্গে ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এই সম্পর্ক তাদের যুগান্তকারী রচনা কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো (১৮৪৮) প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মার্ক্স তার পুরো জীবন পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সমালোচনা এবং সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার তত্ত্ব নিয়ে কাটিয়েছেন। তার লেখা দাস ক্যাপিটাল পুঁজিবাদের অর্থনৈতিক কাঠামোর গভীর বিশ্লেষণ প্রদান করে। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি লন্ডনে স্থায়ী হন এবং সেখানেই ১৮৮৩ সালের ১৪ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন। তার চিন্তাধারা পরবর্তী শতাব্দীতে বিপ্লবী আন্দোলন এবং আধুনিক সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর ভিত্তি স্থাপন করে।

ফারুক সাদিক

*ফারুক সাদিক: এক অনন্য সংগ্রামী পথিক* ফারুক সাদিক বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। তার সংগ্রামী মানসিকতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি তাকে শিক্ষাজীবন থেকেই পরিচিতি এনে দেয়। তিনি বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (BUTEX)-এ শিক্ষার্থী থাকাকালীন ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ফারুক সাদিকের জীবনের বড় অংশজুড়ে ছিল তার নীতিগত দৃঢ়তা ও সামাজিক ন্যায়ের প্রতি অঙ্গীকার। BUTEX-এ অধ্যয়নকালীন তিনি শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং শ্রমিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনে যুক্ত হন। তার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ছাত্রজীবনে তার একাগ্রতা এবং মেধার প্রভাব শুধু BUTEX নয়, দেশের ছাত্র আন্দোলনেও ব্যাপকভাবে প্রতিফলিত হয়। তার নেতৃত্ব সবসময় ছিল গণমানুষের কল্যাণে নিবেদিত। শিক্ষা, শিল্প এবং শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে তার নিরলস প্রচেষ্টা তরুণ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস। ফারুক সাদিকের ব্যক্তিগত জীবনেও ন্যায়পরায়ণতা এবং উদারতা ছিল প্রশংসনীয়। BUTEX-এ ছাত্রজীবনের স্মৃতি এবং ছাত্র ইউনিয়নের সাথে তার সম্পৃক্ততা তাকে এখনো ছাত্র রাজনীতির একটি প্রগতিশীল নাম হিসেবে তুলে ধরে।

Writer

কার্ল মার্কস

Translator

ফারুক সাদিক

Publisher

গ্রন্থিক প্রকাশন

ISBN

9789849976479

Language

বাংলা

Country

Bangladesh

Format

হার্ডব্যাক

Edition

1st

First Published

অমর একুশে বইমেলা ২০২৫

Pages

144

উনিশ শতকের জার্মান বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতির ধারায় ইওরোপ তথা সমস্ত পৃথিবীর আজকে পর্যন্ত অমিমাংসিত একটা প্রশ্ন আবারও সামনে চলে আসে- ইহুদি প্রশ্ন! পৃথিবীর দেশে দেশে ইহুদিদের সাথে খৃষ্টানদের ধর্মীয় বৈরিতার তো একটা খুব ধর্মতাত্ত্বিক রুপ আমরা দেখি, এর চাইতেও বড় বিপদজনক বৈরিতা ছিলো মুলত অর্থনৈতিক। সমস্ত ইওরোপের সুদের কারবার সহ বেশিরভাগ ব্যবসাবানিজ্য একেবারে আষ্টেপৃষ্ঠে ইহুদিদের নিয়ন্ত্রণে ছিলো, ফলে ইওরোপজুড়ে মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ইহুদিবাদের ওপর নির্ভরশীল ছিলো, অথচ সামাজিকভাবে ইহুদিরা সবচাইতে নিপীড়িত জাতি হিসাবে হাজার বছর ধরে ইওরোপসহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে টিকে ছিলেন। এইযে সামাজিকভাবে নিগৃহীত অথচ অর্থনৈতিক ক্ষমতায় সমস্ত ইওরোপের ভাগ্যবিধাতা বনে যাওয়া- সামাজিক আর অর্থনৈতিক অবস্থার এমন বৈপরিত্যের মধ্যে বাস করা ইহুদিরা মুলত একটা সামাজিক তোপের মুখে ছিলেন, সেই তোপ জনপরিসরে এসে ধর্মীয় বিরোধে রুপ নেয়।

 

যেহেতু আপাতদৃষ্টে বিষয়টাকে ধর্মতাত্ত্বিক বিরোধ মনে হয়, সেহেতু ব্রুনো বাউয়ের এসে দুই প্রস্থ প্রস্তাব হাজির করান- প্রথমত ইহুদি খৃষ্টান নির্বিশেষে সমস্ত মানবজাতিকে তাদের ধর্ম ছেড়ে দিতে হবে, এবং রাষ্ট্র কোনও বিশেষ ধর্মের পক্ষপাত করবেনা। বাউয়েরের হিসাবে, রাষ্ট্র হিসাবে রাষ্ট্র তার ধর্ম ছেড়ে দিলেই পৃথিবীর সমস্ত মানুষের ধর্ম নাই হয়ে যাবে,সেক্ষেত্রে অবশ্য মানুষের থেকেও সহযোগীতা চান বাউয়ের- মানুষও যেন নির্বিবাদে তাদের ধর্মটা ছেড়ে দেয়-   আর মানুষ তাদের ধর্ম ছেড়ে দিলেই আর ইহুদি খৃষ্টান বিরোধ তো থাকবেই না, সারা বিশ্বেই সার্বজনীনভাবে মানুষের রাজনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত হবে। এইদিক থেকে ইহুদি প্রশ্নের একটা সার্বজনীন মাহাত্ম্য আছে।

 

এই যুক্তি প্রাথমিকভাবে অত্যন্ত চমকপ্রদ মনে হলেও ছাব্বিশ বছর বয়সী কার্ল মার্কস অত্যন্ত তীক্ষ্মতার সাথে ধরে ফেলেন- ব্রুনো বাউয়েরের এই ঘাঁড়ত্যাড়া যুক্তিবাদ আসলে অত্যন্ত দুর্বল যুক্তির পসরা মাত্র। মার্কস দেখান- রাষ্ট্র তার ধর্ম ছেড়ে দিতেই পারে, ইনফ্যাক্ট সত্যিকারের রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে ওঠার প্রধান শর্তই হলো রাষ্ট্রের দিক থেকে সকল প্রকার ধর্মীয় আনুগত্য ছেড়ে দিতে হবে, কিন্তু সেইটা করার সাথে মোটেও ধর্মের বিলুপ্ত হবার কোনও সম্ভাবনা নাই। বরং উত্তর আমেরিকার উদাহরণ দেখান মার্কস- তিনি দেখান- প্রকৃত গণতন্ত্রী রাষ্ট্রগুলিতে ধর্ম যে কেবল টিকেই আছে তা না- বরং আগের চাইতে তীব্রভাবে এবং যথাযথ বৈচিত্র্য সহই ধর্মগুলি টিকে আছে। ফলে রাষ্ট্র ধর্মীয় আনুগত্য ছেড়ে দিলেই দুনিয়া থেকে ধর্ম চলে যাবে- এমন যুক্তি ভিত্তিহীন।

 

মার্কস তার চাইতেও বড় যেই প্রশ্নটা হাজির করেন, রাষ্ট্র নিজে ধর্ম ছেড়ে দিবে, দিতে বাধ্য, না হলে সে রাষ্ট্র হয়ে উঠতে পারবেনা, সেকারণে আমরা রাষ্ট্রকে ধর্ম ছেড়ে দিতে বলতেই পারি, কিন্তু নাগরিক মানুষকে কি আমরা তাদের ধর্ম ছেড়ে দেয়ার দাবী করতে পারি?

 

রাজনৈতিক মুক্তি পেতে গেলে ধর্ম ছেড়ে দিতে হবে, এমন দাবীর বিপরীতে মার্কস রাজনৈতিক মুক্তির খতিয়ান ঘাটেন, ঘেটে দেখান- যে রাজনৈতিক মুক্তির সনদেই বরং মানুষের মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বাধীনভাবে ধর্মপালনের অধিকারের কথা বলা আছে। উত্তর আমেরিকার প্রায় প্রত্যেক রাজ্যের সংবিধান ঘেটে ঘেটে মার্কস এই যুক্তি দেখান, যে যেই রাজনৈতিক মুক্তি মানুষ তার রক্ত দিয়া অর্জন করছে, সেই মুক্তির সনদেই সবার আগে তার নাগরিক স্বাধীনতা তথা নাগরিক মুক্তির যেই পরামিতি নির্ধারণ করা হইছে, সেইখানে মানুষের স্বাধীনভাবে ধর্মপালনের অধিকারে কারও হস্তক্ষেপ করার অধিকারই দেওয়া হয়নাই। ফলে “রাজনৈতিক মুক্তি পেতে চাইলে ধর্ম ছেড়ে দাও” টাইপের দাবী হলো সেই দাবী, যেখানে কোনও উজবুক এসে আপনাকে উপদেশ দিচ্ছেন- তুমি পানি খেতে চাইলে পানি খাওয়া ছেড়ে দাও!

 

অর্থাৎ হেগেলের সবচাইতে ব্রিলিয়ান্ট শিষ্যটি, আমাদের প্রিয় ব্রুনো বাউয়ের এইখানে এসে যুক্তিবাদীতার তালগোল পাকিয়ে ফেলছেন।

কেন বাউয়ের যুক্তির তালগোল পাকাচ্ছেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুজতে এসে  মার্কস রাজনৈতিক মুক্তি আর মানবমুক্তির ধারণা দুইটাকে সামনে নিয়ে আসেন। মার্কস দেখান, রাজনৈতিক মুক্তি আর মানবিক মুক্তি এক জিনিস না। মানবিক মুক্তির অর্থ পৃথিবীর সকল প্রকার শেকল থেকে মানুষকে মুক্ত করা, আর রাজনৈতিক মুক্তির অর্থ মানুষের বিরাজমান বাস্তবতায় মানুষের সকল প্রকার সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষমতা রাজনীতির হাতে তথা রাষ্ট্রের হাতে ন্যাস্ত করা। এইযে রাজনৈতিক মুক্তি, এর জন্যে মানবিক মুক্তি তথা মানুষের সকল শেকল থেকে মানুষের মুক্তি অর্জন করা আবশ্যক না, মানুষকে নানান শেকলে আবদ্ধ রেখেই তার রাজনৈতিক মুক্তি অর্জন করা যায় এবং তাইই করা হয়েছে। অর্থাৎ মানুষের ভাগ্য কেবলই নির্ধারণ করবে রাষ্ট্র তথা রাজনীতি- রাজনৈতিক মুক্তি মুলত এইটুকুই।

 

অর্থাৎ রাজনৈতিক মুক্তির যেই শর্ত, সেখানে মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকবে, মানুষের শ্রেণীগত বিভাজন থাকবে, মানুষের দক্ষতার বিভাজন থাকবে। এবং এইগুলি থাকবে বলেই মানুষ একলা হয়ে বাঁচবে, সেই একলা হয়ে থাকা মানুষের এই একলা জীবন যেন টিকে থাকে, তার উদ্দেশ্যেই রাষ্ট্র তথা রাজনীতি থাকবে।

Writer

কার্ল মার্কস

Translator

ফারুক সাদিক

Publisher

গ্রন্থিক প্রকাশন

ISBN

9789849976479

Language

বাংলা

Country

Bangladesh

Format

হার্ডব্যাক

Edition

1st

First Published

অমর একুশে বইমেলা ২০২৫

Pages

144

একই বিষয়ের অন্যান্য বই
জনপ্রিয় বই
রিসেন্ট ভিউ বই
Your Dynamic Snippet will be displayed here... This message is displayed because you did not provided both a filter and a template to use.
WhatsApp Icon